বর্তমানের অনিয়মিত জীবনযাত্রা আর খাদ্যাভ্যাসের কারণে লিভারের সমস্যা ঘরে ঘরে হানা দিচ্ছে। বিশেষ করে ফ্যাটি লিভারের মতো সমস্যা এখন দুশ্চিন্তার বড় কারণ। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, নীরবে কোনো রোগ বাসা বাঁধছে কি না, তা শরীর নিজেই কিছু বিশেষ সংকেতের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়। পেট পরিষ্কার হওয়া থেকে শুরু করে জিভের রং— এমন কিছু সাধারণ লক্ষণ রয়েছে যা দেখে আপনি নিজেই বুঝে নিতে পারেন আপনার লিভার ও অন্ত্র কতটা সতেজ।

জিভের রং
আয়নায় নিজের জিভ পরীক্ষা করুন
জিভ যদি হালকা গোলাপি ও পরিষ্কার হয় এবং উপরে কোনো সাদা বা হলদে আস্তরণ না থাকে, তবে বুঝবেন লিভার সুস্থ। জিভে লাল ছোপ বা ক্ষত থাকা লিভারের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
প্রস্রাবের রং ও গন্ধ
লিভারের কাজ হলো শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়া। প্রস্রাবের রং যদি স্বচ্ছ বা হালকা হলুদ হয় এবং কড়া দুর্গন্ধ না থাকে, তবে বুঝবেন লিভার ঠিকমতো শরীরকে ডিটক্স করছে।
প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হওয়া জন্ডিসের লক্ষণ হতে পারে।
নির্দিষ্ট সময়ে খিদে পাওয়া
প্রতিদিন যদি প্রায় একই সময়ে আপনার খিদে পায়, তবে এটি সুস্থ লিভারের বড় লক্ষণ। খাওয়ার পর যদি পেট ভার না লাগে বা বমি ভাব না আসে, তবে আপনার হজম শক্তি দারুণ পর্যায়ে আছে।
খাওয়ার পর শক্তির অনুভব
অনেকের খাওয়ার পরেই ভীষণ ঘুম পায় বা ক্লান্তি আসে। কিন্তু পেট ও লিভার সুস্থ থাকলে খাওয়ার পর আপনি শরীরে শক্তি অনুভব করবেন, ক্লান্তি নয়।
এটি প্রমাণ করে যে আপনার মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া সঠিক আছে।
মুখে দুর্গন্ধ না থাকা ও স্থিতিশীল ওজন
দাঁত মাজার পরেও মুখে দুর্গন্ধ থাকা মানেই হজমের সমস্যা বা গ্যাস-অম্বল। যদি মুখ পরিষ্কার থাকে এবং আপনার ওজন হুটহাট না কমে বা বাড়ে, তবে বুঝবেন লিভার ঠিকমতো ক্যালরি পোড়াতে পারছে এবং শরীর সুস্থ আছে।
শরীর সুস্থ থাকলে সে নিজেই সংকেত দেয়। এই সাধারণ লক্ষণগুলো খেয়াল রাখলে আপনি সহজেই নিজের স্বাস্থ্যের অবস্থা বুঝতে পারবেন। কোনো অস্বাভাবিকতা দেখলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।