ঢাকা-দিল্লি আলোচনায় হাসিনা অনুপস্থিত

প্রতিবেদকের নাম :
  • প্রকাশিত : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ০ প্রিয় পাঠক,সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন এবং মধুমতির সাথেই থাকুন

রিফাইন্ড আওয়ামী লীগে সায় নেই শেখ হাসিনার। তাই তিনি কাতার যাওয়াসহ সব প্রস্তাবই নাকচ করে দিচ্ছেন। মানবজমিন জানতে পেরেছে পরিশোধিত আওয়ামী লীগ গড়তে দুটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ শুরু করেছিল ভারত সরকার। তাতে বলা হয়েছিল, হয় আপনি কাতার যান, নাহয় নতুন আওয়ামী লীগ গড়তে মত দিন। হাসিনা দুই প্রস্তাবই উড়িয়ে দিয়েছেন ভিন্ন কৌশলে। বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ যাতে অংশ নিতে পারে সে লক্ষ্য নিয়েই প্রস্তাব চালাচালি হয়েছিল। কিন্তু হাসিনা তার সিদ্ধান্তে অনড়। তিনি কোনো অবস্থাতেই ভারত ছাড়তে চান না। যেতে চান না কাতারে। তিনি মনে করেন, কাতার যাওয়ার মানে হচ্ছে- নেতৃত্ব ছেড়ে দেয়া । একাধিক কূটনৈতিক সূত্র এই ইঙ্গিতও দিচ্ছে যে, হাসিনাকে বলা হয়-তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন প্রায় অসম্ভব। গণ-আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া শেখ হাসিনা সরকার যেসব গণহত্যা চালিয়েছে তা মানুষের মন থেকে এখনও মুছে যায়নি। মানুষ বিক্ষুব্ধ। প্রশাসনিক কোনো সমর্থনও নেই। বাংলাদেশের কোথাও দলের কোনো দৃশ্যমান অস্তিত্ব নেই। সরকার বিদায় নিয়েছে, দলও বিদায় নিয়েছে। নেতারা হয় ভারতে কিংবা অন্যদেশে আশ্রয়রত। কর্মীদের বেশিরভাগই এখনও পলাতক। দল পুনর্গঠনের কোনো চেষ্টা-তদবিরও নেই।

এই অবস্থায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেই হাসিনার অবস্থান নড়বড়ে। এ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকের পর ভারত তাদের আগ্রহ অনেকটাই হারিয়ে ফেলে। ঢাকা-দিল্লি সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় আনুষ্ঠানিক আলোচনায় হাসিনা প্রসঙ্গ আসেনি। কথা হয়নি আওয়ামী লীগের পুনর্গঠন নিয়েও। এমনকি আলোচনায় উঠে আসেনি আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে আনা অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হওয়া বিলটিও। ওয়াকিবহাল কূটনীতিকরা বলছেন, ভারতের এই মনোভাবে হাসিনা প্রচণ্ড হতাশ। কিন্তু করার যে কিছুই নেই! সাবের হোসেন চৌধুরীকে নিয়ে রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ গড়ার চেষ্টা বিফলে যায়। হাসিনা এই উদ্যোগে মত দেননি। বরং ক্ষুব্ধ হয়েছেন ভীষণভাবে। এর ফলে সাবের চৌধুরী অনেকটা নাটকীয়ভাবে দৃশ্যপট থেকে বিদায় নেন। নির্বাচনের আগে এসব উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় ভারতের মনোভাবে বেশ পরিবর্তন আসে। নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে ভিন্নমত থাকলেও শেষ পর্যন্ত পক্ষেই মত দেন শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা। চটজলদি বেশ কিছু পরিবর্তনও লক্ষ করা যায় তখন। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানই এর প্রমাণ।

গোড়াতে হাসিনা চেয়েছিলেন তার পরিবারের পক্ষে কাউকে দলের নেতৃত্ব দিতে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ মহলে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় এই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। হাসিনা নিজেও তার বোনের ছেলে রাদওয়ান সিদ্দিক ববিকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বে আসার ব্যাপারে সবুজ সংকেত দেননি। সময় যত গড়াচ্ছে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

মধুমতি টেলিভিশনের অন্যান্য খবর