দেশে শতকরা ২৭ জন বাতের ব্যথায় আক্রান্ত

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২০
  • ৮৬৫ প্রিয় পাঠক,সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন এবং মধুমতির সাথেই থাকুন

একটা সময় বয়স্ক মানুষেরা নানা ধরনের ব্যথায় ভুগলেও এখন কম বয়সেও অনেকে বাতের সমস্যায় পড়ছেন। বাত ব্যথা বা রিউমাটোলজির ওপর দক্ষ চিকিৎসকও দেশে কম। দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে নেই তাদের তেমন কোনো পদ। তবে বাতব্যথা রোগের বিস্তার রোধ করতে না পারায় দিনদিন রোগী বাড়ছে। চিকিৎসকরা বলছেন, এদেশের অনেক মানুষ বাতব্যথা রোগের জন্য বাইরের অনেক দেশে গিয়ে প্রচুর টাকা ব্যয় করেন, কোনো কোনো সময় প্রতারিতও হন। আবার অপচিকিৎসা ও অন্যান্য অনেক কারণে রোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে শেষে সাধারণ চিকিৎসা চালানোর সক্ষমতাও হারিয়ে ফেলছেন। গবেষণা বলছে, বাংলাদেশে প্রতি একশজনে প্রায় ২৭ জন মানুষ কোনো না কোনো সময়ে বাত ব্যথার কষ্টে ভোগেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এই রোগে পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি আক্রান্ত হন এমন তথ্যও উঠে এসেছে গবেষণায়। অধূমপায়ীদের থেকে ধূমপায়ীদের বাতের ব্যথার ঝুঁকি বেশি বলে তথ্য উঠে এসেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, বাতের কষ্টে থাকা রোগীদের সঠিকভাবে রোগ নির্ণয়ে বিলম্ব হলে এবং যথাযথ চিকিৎসা না পেলে রোগীরা কর্মক্ষমতা হারাতে পারেন। জানা গেছে, দেশে শুধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) রিউমাটোলজি বিভাগে বাতব্যথা বিষয়ে চিকিৎসা, শিক্ষা ও গবেষকরা কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিকেরও বেশি চিকিৎসক এই বিভাগ থেকে দেশে শতকরা ২৭ জন বাতের ব্যাথায় আক্রান্ত
রিউমাটোলজিতে এমডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তবে সরকারি হাসপাতালে কোনো পদ না থাকায় এই বিশেষজ্ঞদের চিকিৎসা সেবার বিস্তার ঘটানো যাচ্ছে না। বিএসএমএমইউর এই বিভাগ থেকে ২০০১ ও ২০১০ সালে বাংলাদেশে বাতব্যথা রোগের প্রকোপ নির্ণয়ের জন্য দুটি গবেষণা করা হয়। তাতে দেখা যায়- শতকরা ২৬ দশমিক ৩ থেকে ২৬ দশমিক ৫ ভাগ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময় বাতব্যথায় ভোগেন। পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি ভোগেন। পুরুষের হার ২১ দশমিক ১ ভাগ ও নারীদের ৩১ দশমিক ৩ ভাগ (২০০১ সাল)। আশঙ্কার বিষয় যে ১০ বছরের ব্যবধানে নারীদের হার প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ৩৪ দশমিক ৫ ভাগ এবং পুরুষদের হার ১৮ দশমিক ৬ ভাগ হয়েছে (২০১০ সাল)। এছাড়াও একই এলাকায় পরিচালিত এই দুটি গবেষণায় দেখা যায়, বাত ব্যথার সবচেয়ে বেশি প্রকোপ থাকে কোমড়ে। কোমড়ে ব্যথা বাত ২১ দশমিক ২ ভাগ ও ২০ দশমিক ১ ভাগ (২০১০ ও ২০০১ সাল)। এরপরে হাঁটু ব্যথা বাত ১৪ দশমিক ৭ ভাগ ও ১৪ ভাগ (২০১০ ও ২০০১ সাল)। কাঁধের জোড়ার বাত ৭ দশমিক ৪ ভাগ (২০১০ সাল) ও ১১ দশমিক ৫ ভাগ (২০০১ সাল), কুঁচকি বা হিপের বাত ৭ দশমিক ১ ভাগ (২০১০ সাল) ও ১৩ ভাগ (২০০১ সাল), গোড়ালির বাত ৬ ভাগ (২০১০ সাল) ও ৭ দশমিক ৭ ভাগ (২০০১ সাল)। বাতের কষ্টে ভোগা এসব মানুষের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ায় তারা নিয়মিত কর্মক্ষেত্রে যেতে পারে না বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

মধুমতি টেলিভিশনের অন্যান্য খবর