দেশে মহামারি করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধের পাশাপাশি অর্থনীতির চাকা সচলে দেশকে তিনটি রংয়ে- রেড, ইয়োলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করছে সরকার। রোববার (১৪ জুন) ঢাকার ৪৫ এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরইমধ্যে জোনভিত্তিক লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ শুরু হয়েছে। এমন খবরে একদিনের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে চাল, আলু, ব্রয়লার মুরগিসহ সাতটি নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে।
বাজারগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, গত দুই দিনে সব থেকে বেশি বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। চলতি সপ্তাহে একাধিক দফায় দাম বেড়ে ব্রয়লার মুরগির কেজি আবার ১৭০ টাকায় উঠেছে, যা গত শুক্রবারও ছিল ১৪০ টাকার মধ্যে।
কেনাকাটা বাড়ায় দাম বেড়েছে সব ধরনের চালের। মোটা চালের দাম বেড়ে কেজি ৩৮ থেকে ৪৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে, যা দুদিন আগে ছিল ৩৪ থেকে ৩৬ টাকার মধ্যে। ৪০ থেকে ৪২ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া মাঝারি মানের চালের দাম বেড়ে হয়েছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। চিকন চালের দাম বেড়ে কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৬ থেকে ৬২ টাকা, যা আগে ছিল ৫৪ থেকে ৫৮ টাকার মধ্যে।
দুদিন আগে ২৬ থেকে ২৮ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আলুর দাম বেড়ে ৩০ টাকা হয়েছে। দেশি রসুনের দাম বেড়ে কেজি আবার ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। কয়েক দফা দাম কমে গত সপ্তাহে দেশি রসুনের কেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকা হয়েছিল। এখন তা আবার বেড়ে ১১০ থেকে ১২০ টাকা হয়েছে। রসুনের সঙ্গে দাম বেড়েছে দেশি পেঁয়াজের। ৪০ টাকা থেকে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে এখন ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
হঠাৎ চালের দাম বাড়ার বিষয়ে খিলগাঁও তালতলার চাল ব্যবসায়ী জানে আলম ভূঁইয়া বলেন, নতুন চাল আসায় কিছু চালের দাম কম ছিল। তবে কয়েকদিন ধরে চাল বিক্রি বেড়েছে। এ কারণেই হয়তো দাম একটু বেশি।
ব্রয়লার মুরগির দাম বাড়ার বিষয়ে রামপুরার এক ব্যবসায়ী বলেন, ঈদের পর কয়েক দফা ব্রয়লার মুরগি দাম কমে। তবে গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা বেড়ে যায়। এখন আবার লকডাউন হবে এমন গুঞ্জন শুনছি। এতে দুদিন ধরে বিক্রি একটু বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম।
হাজীপাড়ার ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর বলেন, কয়েক দিন ধরে শুনছি ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চল আবার লকডাউন হবে। এ কারণেই হয়তো মানুষ বাড়তি কেনাকটা করছে। এর আগে করোনাভাইরাসের শুরুর দিকেও এমন বাড়তি কেনাকাটা শুরু হয়েছিল। ফলে সবকিছুর দাম বেড়ে গিয়েছিল।