থার্টি ফার্স্ট নাইট ঘিরে জাল টাকা ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৯৩৩ প্রিয় পাঠক,সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন এবং মধুমতির সাথেই থাকুন

জাল টাকা এবং ভারতীয় জাল রুপি তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে তিন নারীসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার রাজধানীর জুরাইন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে ডিবির গুলশান বিভাগ।

ডিবি জানায়, এই চক্রের সদস্যরা এর আগেও বিভিন্ন সময় জাল টাকা এবং রুপি তৈরি করে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিল। জামিনে বের হয়ে তারা আবারও একই কাজ করছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে। সাধারণ উৎসবকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ জাল নোট এবং ভারতীয় জাল রুপি ছড়িয়ে দিতে মাঠে নামে চক্রের সদস্যরা। আসন্ন থার্টি ফার্স্ট নাইট এবং নববর্ষকে টার্গেট করে তারা বিপুল পরিমাণ জাল নোট ও জাল রুপি তৈরি করছিল।

অভিযানে গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন- জাল টাকা এবং রুপি তৈরির অন্যতম গুরু জাকির হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, বাদল খান, মালেক ফরাজী, জসিম উদ্দিন ও শিহাব। গ্রেফতার অন্য তিনজন নারী। অভিযানে তাদের কাছ থেকে ২০ লাখ জাল ভারতীয় জাল রুপি, ৩২ লাখ জাল টাকা, বিপুল পরিমাণ জাল মুদ্রা তৈরির বিশেষ ধরনের কাগজ, নিরাপত্তা সুতা, বিভিন্ন ধরনের রং, কেমিক্যালস, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, লেমিনেশন মেশিন, কাটার, বিভিন্ন রকমের ডাইসসহ জাল টাকা তৈরির বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়। এসব উপকরণ দিয়ে আরও কয়েক কোটি জাল টাকা ও রুপি তৈরি করা সম্ভব। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪ লাখ ৫ হাজার টাকাও উদ্ধার করা হয়।

ডিবির গুলশান বিভাগের ডিসি মশিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, উদ্ধারকৃত জাল টাকার মধ্যে ৫০০ টাকা ও ১০০০ টাকা মূল্যমানের নোট, জাল রুপির মধ্যে ৫০০ রুপির জাল নোট রয়েছে। চক্রের সদস্য বাগেরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ঢাকা জেলা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গাজীপুর জেলা এবং ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে থেকে জাল টাকা তৈরি করত। আসন্ন থার্টি ফার্স্ট ও নববর্ষ উপলক্ষে জাল রুপি এবং টাকার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ঢাকা মহানগরীর জুরাইন এলাকার শহীদ শাহাদত হোসেন রোডে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে এ কাজ করছিল তারা।

ডিবির কর্মকর্তারা জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের প্রায় সবার বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে। জামিনে থেকেও বেশি টাকা উপার্জনের লোভে তারা বারবার জাল টাকা এবং রুপি তৈরি করছিল। জাকির ২০১৯ সালেও তার স্ত্রী এবং অপর সহযোগীসহ ডেমরা এলাকার একটি অত্যাধুনিক বাসায় জাল রুপি তৈরি করার সময় গ্রেফতার হয়েছিল। জাকির একজন ফিনিশার, হাতুড়ে ইঞ্জিনিয়ার এবং জাল টাকা ও রুপি তৈরির বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। ওবায়দুল ও জসিম জাল টাকা তৈরির কারখানায় বিশেষ কাগজ, নিরাপত্তা সুতা তৈরি এবং অন্য কাজ করত। বাদল ঢাকা, সাভার ও মানিকগঞ্জের পাইকারি ডিলার। শিহাব রাজধানীর পাইকারি ডিলার। সাগর নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে ডিলার। জামাল বরিশালসহ দক্ষিণ অঞ্চলে জালনোট সরবরাহকারীদের মূলহোতা। চক্রটি শক্তিশালী নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জায়গার খোলা বাজার, বিপণি বিতান, যানবাহনের চালক ও হেলপারদের বিভিন্ন কৌশলে ধোকা দিয়ে জাল টাকা বিক্রি করে।

Please Share This Post in Your Social Media

মধুমতি টেলিভিশনের অন্যান্য খবর