ধর্ম সচিব মো. নুরুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, বঙ্গবন্ধুর প্রতি আমাদের ঋণ ততদিন থাকবে। বঙ্গবন্ধুর ঋণ আমরা কখনও পরিশোধ করতে পারব না।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বুধবার দুপুরে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পবিত্র কোরআনখানি, আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন ধর্ম সচিব বলেন, বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাসে কোনো নেতার দ্বারা যা সম্ভব হয়নি তা সম্ভব করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি বাঙালি জাতিকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দিয়েছেন। এর পূর্বে বাঙালি কখনোই একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে নিজেদের নেতৃত্ব দিতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেয়া খোকা এক সময় শেখ মুজিবুর রহমান, তারপর বঙ্গবন্ধু, সেখান থেকে তিনি জাতির পিতার সম্মানে আসীন হয়েছেন। তিনি ১৯৪৮ সাল থেকে শুরু করে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় এদেশের মানুষের মুক্তির জন্য লড়াই সংগ্রাম করে গেছেন, যার চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় আমাদের মহান বিজয়।
ধর্ম সচিব বলেন, বঙ্গবন্ধুর আজীবনের লালিত স্বপ্ন ছিল এদেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। তার স্বপ্ন ছিল জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবার জন্য একটি শান্তিপ্রিয় সোনার বাংলাদেশ গড়া। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে বলিষ্ঠভাবে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন পার্শ্ববর্তী দেশ সমূহের জন্য ঈর্ষণীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতি আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তাহলে অচিরেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা লাভ করবে।
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন একজন সত্যিকারের ঈমানদার মুসলমান। ৭ মার্চের ভাষণে তিনি ইনশাআল্লাহ তথা আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রেখে পরাক্রমশালী পাকিস্তানি শাসকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছিলেন। স্বাধীনতা অর্জনের দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করেছিলেন এবং আল্লাহর রহমতে বাঙালিকে স্বাধীন দেশ উপহার দিতে পেরেছিলেন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কুরআনখানি, আলোচনা ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর ড. মাওলানা কাফিল উদ্দিন সরকার সালেহী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাসহ বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।