নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে গত শুক্রবার একটি স্কুলে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবের পর নিখোঁজ থাকা কয়েকশ’ শিক্ষার্থীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইএস সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী সংগঠন বোকো হারাম। মঙ্গলবার সংগঠনটির এক নেতার পাঠানো অডিওবার্তায় ওই শিক্ষার্থীদের অপহরণের দায় স্বীকার করা হয়েছে।
গত শুক্রবার নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কাতসিনা শহরের সরকারি বিজ্ঞান স্কুলে হামলা চালায় শতাধিক মোটরসাইকেল আরোহী সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। এসময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের তুমুল বন্দুকযুদ্ধ হয়। এ থেকে প্রাণ বাঁচাতে আশপাশের জঙ্গল ও ঝোপঝাড়ে লুকায় শত শত শিক্ষার্থী। কিন্তু এরপর থেকে তিন শতাধিক ছাত্রছাত্রীকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার এক অডিওবার্তায় বোকো হারামের এক নেতা বলেন, ‘আমি আবু বকর শেকাও এবং আমার ভাইয়েরা কাতসিনা অপহরণ ঘটিয়েছি।’
অপহৃত শিক্ষার্থীদের বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যরা গত রোববার স্কুল চত্বরে জড়ো হয়ে সরকারের কাছে তাদের সন্তানদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছেন।
অবশ্য অপহৃত শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে গত শনিবারই নাইজেরিয়ার পুলিশ, বিমানবাহিনী এবং সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
সোমবার নাইজেরীয় সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা সন্ত্রাসীদের ঘাঁটি চিহ্নিত করেছে। সেখানে শিগগিরই সামরিক অভিযান শুরু হবে।
এর আগে ২০১৪ সালে চিবক এলাকার শতাধিক ছাত্রীকে অনেকটা একইভাবে অপহরণ করেছিল বোকো হারাম। তবে গত শুক্রবারের মতো এত বড় ধরনের অপহরণের ঘটনা দেশটিতে আগে ঘটেনি।
পশ্চিম আফ্রিকান ইসলামিক স্টেট বা আইএসডব্লিউএপির একটি বিচ্ছিন্ন শাখা বোকো হারাম। নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তাদের প্রকোপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সংগঠনটির সাম্প্রতিক এক ভিডিওবার্তায় গোটা উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকেই বোকো হারামের শীর্ষনেতার আনুগত্য স্বীকার করতে বলা হয়েছে।