ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়েছে আর্সেনাল।
ওল্ড ট্রাফোর্ডে চওড়া হাসি মিকেল আর্টেটার চোখেমুখে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দূর্গে এসে তাদের দম্ভ চূর্ন করে দিয়েছে শিষ্যরা। ছাত্রদের কৃতিত্বে খুশি গুরু। আনন্দের সে রেশ ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারিতে থাকা বিজয়ী বীর অবামেয়াংয়ের চোখে মুখেও। কারো পৌষ মাস আর কারো সর্বনাশ। ম্যাচের শেষে আর্টেটার হাসি আর সোলশায়ারের মলিন চেহারাতেই প্রমাণ পাওয়া যায় বাংলার এই প্রবাদের। কষ্ট পাবেননাই বা কেন!
করোনার করাল গ্রাসে ফুটবল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে জানুয়ারিতে এই আর্সেনালের সঙ্গে শেষ দেখাটাও যে ছিলো হারের তিক্ততায় ভরা। এমিরেটসে সে ম্যাচে ২-০ গোলে হেরেছিলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। পরপর দুই ম্যাচে আর্সেনালের কাছে হারটা মেনে নেয়াতো কষ্টেরই পগবাদের জন্য!
মর্যাদার এই ম্যাচের শুরুর চিত্র ছিলো একেবারেই আলাদা। শুরু থেকেই সমানতালে লড়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও আর্সেনাল। পয়েন্ট টেবিলে গানারদের চেয়ে পিছিয়ে আছে রেড ডেভিল। তাই এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য কেউ কাউকে ছাড় দেয়নি একচুল। তবে গোল হয়নি। ৩৯ মিনিটে আর্সেনালকে আনন্দে ভাসানোর উপলক্ষ্য পেয়েছিলেন উইলিয়ান। কিন্তু হতাশ করেছেন এই ব্রাজিলিয়ান।
গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয়ার্ধও ছিলো রোমাঞ্চে ঠাসা। প্রতিমুহূর্তে টানটান উত্তেজনা নিয়ে সমর্থকদের অপেক্ষা। তবে, তাদের গোল উপহার দিতে পারেননি দু’দলের কোন ফুটবলার। ৫১ মিনিটে আবারো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলো আর্সেনাল। কিন্তু এবার অবামেয়াংয়ের শট গোলপোস্টের পাশ দিয়ে চলে যায়। তিন মিনিট পর লুক শ’ ম্যাজিকও উত্তেজনা ছড়িয়েই শেষ। গোল হয়নি।
অবশেষে আসে সে ক্ষণ। ৬৮ মিনিটে বড় ভুল করেন পল পগবা। আর্সেনালের বেলেরিনকে ফাউল করে বসেন ফরাসি মিডফিল্ডার। রেফারির পেনাল্টির সিদ্ধান্ত লুফে নেন পিয়েরে এমরিক অবামেয়াং। প্রিমিয়ার লিগে টানা ৫ ম্যাচ গোলহীন থাকার পর, অবশেষে গোলের দেখা পেলেন গ্যাবনের এই ফরোয়ার্ড। গোলের আনন্দে নিজেও নেচেছেন। নাচিয়েছেন সতীর্থদেরও।
এই গোলের পর আর ভালো কোন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি দু’দল। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্সেনাল। ১৯২৫-২৬ সালে হারবার্ট চ্যাপম্যানের পর আর্সেনালের দ্বিতীয় কোচ হিসেবে ম্যানচেস্টারের ইউনাইটেডের বিপক্ষে নিজের প্রথম দুই ম্যাচেই জিতলেন আর্টেটা।