দীর্ঘদিনের করোনাকালীন বিরতির পর মাঠে ফিরছে ফুটবল। ফিফা উইন্ডোতে নেপালের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ম্যাচ দিয়েই দীর্ঘদিনের বিরতির ইতি ঘটবে। এই উপলক্ষে অনুশীলন শুরুও করে দিয়েছে ফুটবল দল। আগামী মাসের ১৩ ও ১৭ নভেম্বর ম্যাচ দুটি খেলবে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।
সর্বশেষ দুবারের দেখায় নেপালের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। ২০১৩ ও ২০১৮ সালের সাফ গেমসে দুই ম্যাচেই ২-০ গোলে হারে বাংলাদেশ। মাঝে বহুদিন ফুটবলের বাইরেই ছিলেন খেলোয়াড়রা। এই নেপালকে কী হারাতে পারবে জেমি ডের শিষ্যরা? সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবে খেলা জাতীয় দলের ডিফেন্ডার মনে করেন, ফুটবল দলের কাছে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। অর্থ্যাৎ যে কোনো সময় যে কোনো দলকেই হারানো সম্ভব বলে মনে করেন রক্ষণভাগের খেলোয়াড়।
আজ শনিবার সকাল থেকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুশীলন শুরু করেন ফুটবলাররা। অনুশীলন বলতে মূলত ফিটনেস নিয়েই কাজ করেছেন। ফিজিওর অধীনে ফুটবলারদের দিতে হয়েছে কুপার টেস্ট (দৌড়ের মাধ্যমে ফিটনেস টেস্ট)। এই অনুশীলনের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রহমত মিয়া নেপালকে হারানো নিয়ে এই মন্তব্য করেন।
রহমত মিয়া বলেন, ‘কোনোকিছুই আসলে অসম্ভব নয়। আমরা যখন এশিয়ান গেমসে গেছিলাম আমরা কী ভাবতে পারছি আমরা কাতারকে হারাতে পারব। অবশ্যই না। কারণ কাতারের যে র্যাংকিংটা আমরা তাদের থেকে অনেক পেছনে। কোনো কিছুই অসম্ভব নয়, আমরা চেষ্টা করব আমাদের সেরাটা দেওয়ার। ভালো ফলাফল করার আশা রাখি ইনশাল্লাহ।’
কিছুদিন পরেই শুরু হবে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। নেপালের ম্যাচ ওই লিগে ভালো পারফর্মেন্সের জন্য কাজে দেবে বলে জানান রহমত মিয়া। ‘নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ পেয়ে অবশ্যই খুশি। আমাদের দীর্ঘদিন মাঠে খেলা নেই। আমাদের প্রস্তুতিটাও ভালো নেই। সামনে প্রিমিয়ার লিগ শুরু হচ্ছে। প্রিমিয়ার লিগের আগে খেলা দুটোর জন্য আমাদের ফিটনেসের মান ভালো হয়ে যাবে। ক্লাবে গিয়ে আমরা খুব ভালোভাবে পারফর্ম করতে পারব।’
প্রথম দিন অনুশীলনে অংশ নিয়েছেন ১৪ জন ফুটবলার। তাদের কুপার টেস্টে সন্তুষ্ট জাতীয় দলের ফিজিও ফুয়াদ হাসান হাওলাদার। বসুন্ধরা কিংসের ফুটবলাররা ছুটিতে থাকায় যারা জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন তারা যোগ দিতে পারেননি। তাদের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ২৭ অক্টোবর।
এ ছাড়া অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া এখনো দেশের বাইরে। তার ফেরার কথা রয়েছে ২৯ অক্টোবর। কয়েক দিনের মধ্যেই সবাইকে পাওয়া যাবে ক্যাম্পে। জেমি ডেসহ কোচিং স্টাফের সদস্যদের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে। এর আগে ৩৬ জনকে রেখে দল ঘোষণা করে বাফুফে। আগামীমাসের ১৩ ও ১৭ নভেম্বর ম্যাচ দুটি অনুষ্ঠিত হবে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে।
সতীর্থদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরতির পর অনুশীলন করতে পেরে খুশি রহমত মিয়া। ‘অনেক দিন পর জাতীয় দলে আসছি। সেটা অনেক খুশির খবর। আমাদের অনুশীলন শুরু হইসে অনেক দিন পরে, সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করতে পারছি। করোনালে যখন আমরা ঘর থেকে বেরোতে পারি নাই তখন আমরা ঘরেই ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছি, যখন মোটামোটি স্বাভাবিক হইছে তখন থেকে আমরা জিমে যাওয়া শুরু করেছি’-ঠিক এভাবেই বলছিলেন এই ডিফেন্ডার।