হাথরাসে নির্যাতিতা তরুণীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে এক পুলিশ সদস্যের হাতে হেনস্থার শিকার হয়েছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তার গায়ে হাত দিয়ে পরনে থাকা কুর্তা টানার ছবি ধরা পড়েছে সাংবাদিকদের ক্যামেরায়। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।
কংগ্রেসের দাবি, প্রিয়াঙ্কাকে হেনস্তাকারী ওই পুলিশ সদস্য পুরুষ ছিলেন। এমন ঘটনার দায়ে উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের পদত্যাগ দাবি করেছে দলটি। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার হাথরসে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রিয়াঙ্কা, রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেস নেতাকর্মীদের আটকে দিয়েছিল পুলিশ। সেসময় রাহুল-প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে এফআইআর-ও দায়ের করা হয়েছিল।
শনিবার আবারও ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে হাথরসের উদ্দেশে রওয়ানা দেন প্রিয়াঙ্কা। এদিনও আগেভাগেই তৈরি ছিল ইউপি পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলকে আটকানোর জন্য দিল্লি-উত্তর প্রদেশ সীমান্তে দিল্লি-নয়ডা ফ্লাইওভারটিকে একপ্রকার দুর্গে পরিণত করে উত্তর প্রদেশ পুলিশ। মোতায়েন করা হয় অসংখ্য নিরাপত্তা কর্মী। সীমান্তের কাছে পৌঁছাতেই রাহুল-প্রিয়াঙ্কাদের আটকে দেয়া হয়। যেখান থেকে হাথরসের দূরত্ব প্রায় ১৮০ কিলোমিটার।
এসময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। তাদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলেও অভিযোগ দলটির। এরমধ্যেই ক্যামেরায় ধরা পড়া একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এক পুলিশ সদস্য কাঁধের কাছে প্রিয়াঙ্কার পোশাক ধরে টানছেন। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে ভারতের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল কংগ্রেস।
দলটির মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেছেন, এর চেয়ে লজ্জা ও দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। এরকম গুণ্ডাগিরির জন্য বিজেপি সরকার এবং [যোগী] আদিত্যনাথের ডুবে মরা উচিত। পুরুষ পুলিশ সদস্য দিয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর গায়ে হাত তুলিয়ে আপনি কোন সংস্কারের পরিচয় দিয়েছেন? ভীতুর মতো পুলিশের পেছনে লুকাবেন না। সামনে এসে নিজের কুকর্মের জন্য ইস্তফা দেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি।