সন্তানের লেখাপড়ার অজুহাতে বদলি ঠেকানোর দিন শেষ!

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪১২ প্রিয় পাঠক,সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন এবং মধুমতির সাথেই থাকুন
Dhaka, Bangladesh. 13th June 2011 -- Bangladeshi police stand guard in front of the Bangladesh Nationalist Party office during a nationwide strike. -- Bangladeshi police stand guard in front of the Bangladesh Nationalist Party office during a nationwide strike. Dhaka, 13th June 2011

ঢাকার বাইরে বদলি হওয়া অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যই নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে চান না। তাদের প্রধান অজুহাত রাজধানীর মানসম্মত স্কুলে সন্তানের লেখাপড়া। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে হয় সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের। তাই সন্তানের লেখাপড়ার অজুহাতে বদলি বাতিলের আবেদন জানানোর দিন শেষ করতে চায় পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ দেশের সব বিভাগীয় শহরেই বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আধুনিক ও মানসম্মত স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন।

এ বিষয়ে আইজিপির দিকনির্দেশনায় সদর দপ্তরের এডুকেশন শাখা পুলিশের সব ইউনিটে একটি জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। পুলিশ সদস্যের সন্তানদের জন্য দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে প্রস্তাবিত আধুনিক মানসম্পন্ন রেসিডেন্সিয়াল (আবাসিক) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে জরিপটি করা হয়। এ থেকে জানা যায়, বিভাগীয় শহরগুলোতে বাহিনীর তত্ত্বাবধানে আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে সেখানে নিজেদের সন্তানদের ভর্তি করাবেন বলে জানান ৯০ শতাংশ পুলিশ সদস্য।

তবে বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামকেই বেশি পছন্দ তাদের। এর মধ্যে ২২ শতাংশ ঢাকায় এবং ২১ শতাংশ সদস্য তাদের সন্তানদের চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে চান। আর সবচেয়ে কম পছন্দ সিলেট বিভাগ, ৪ শতাংশ। জরিপে এও উঠে এসেছে, প্রস্তাবিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলা ভার্সনে সন্তানদের পড়াতে আগ্রহী দুই-তৃতীয়াংশ পুলিশ সদস্য। পাশাপাশি অধিকাংশ সদস্যই তাদের সন্তানদের বিজ্ঞান বিভাগে পড়াতে চান। মাদ্রাসা এবং ভোকেশনাল শিক্ষার পক্ষে খুব কম সংখ্যক সদস্যই মতামত দিয়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, পুলিশ সদর দপ্তরে গত ৫ জুলাই এক মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয় দেশের আটটি বিভাগীয় ও মহানগর শহরে আধুনিক মানসম্পন্ন আটটি রেসিডেন্সিয়াল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি জরিপ করা হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে পুলিশ পরিবারের ৮০ ভাগ এবং বাইরের ২০ ভাগ শিক্ষার্থী ভর্তির মডেল অনুসরণ করার বিষয়েও আলোচনা হয়। ওই বৈঠকের নির্দেশনা অনুসরণ করেই পরবর্তীতে অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) ও সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন কমিশনারদের সঙ্গে সমন্বয় ও সহায়তায় জরিপটি পরিচলিত হয়। সেটি আজ বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সামনে উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

অতিরিক্ত আইজি (এইচআরএম) এসএম রুহুল আমিন বলেন, ‘পুলিশ সদস্যদের ঢাকার বাইরে বদলি করলেই তারা সন্তানের লেখাপড়ার অজুহাত দিয়ে সেখানে যেতে চান না। বদলি বাতিলের আবেদন করেন। এতে প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই বিভাগীয় শহরগুলোয় আধুনিক মানসম্মত শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক। যাতে করে ভবিষ্যতে আর কেউ যেন সন্তানের লেখাপড়ার অজুহাত দিতে না পারেন। প্রস্তাবিত শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে অন্তত ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী পুলিশের বাইরে থেকেও ভর্তি হতে পারবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ সদস্যরা বিভাগীয় শহরগুলোয় তাদের সন্তানদের লেখাপড়া করাতে চান কিনা, এ বিষয়টি জানতেই জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। জরিপে আমরা দেখেছি, বিভাগীয় শহরগুলোয় মানসম্মত আধুনিক স্কুল-কলেজ হলে অধিকাংশ সদস্যই তাদের সন্তাদের পড়াতে চান বলে মতামত দিয়েছেন। অর্থাৎ আমাদের উদ্যোগের সঙ্গে তারাও একমত।’

জরিপে পুলিশ বাহিনীর (সিভিল স্টাফসহ) ২ লাখ ২ হাজার ৩২০ সদস্যের মধ্যে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩১৫ জন অংশ নেন, যা মোট সদস্যের প্রায় ৬৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। জরিপে কনস্টেবল থেকে এসআই পদমর্যাদার অংশ নেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৬১৭ জন, যা জরিপে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যের ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ। পরিদর্শক থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৫ হাজার ৮২৯ জন অংশ নেন (জরিপে অংশগ্রহণকারীর ৪ দশমিক ২ শতাংশ)। পুলিশ সুপার থেকে ওপরের পদমর্যাদার কর্মকর্তা অংশ নেন ৪৫৭ জন, যা দশমিক ৩ শতাংশ। আর সিভিল স্টাফ অংশ নেন ২ হাজার ৪১২ জন (মোট অংশগ্রহণকারীর ১ দশমিক ৭ শতাংশ)।

আরও জানা যায়, জরিপে অংশ নেওয়া ৯২ শতাংশই পুরুষ (১ লাখ ২৭ হাজার ৪১৮ জন)। আর নারী সদস্য ছিলেন ১০ হাজার ৮৯৭ জন। বৈবাহিক অবস্থার দিক থেকে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১ লাখ ৪ হাজার ১৮৫ জনই বিবাহিত, যা ৭৫ দশমিক ৩০ শতাংশ। এর মধ্যে ৮২ হাজার ৯৮১ জনের সন্তান রয়েছে। আবার বিবাহিতদের মধ্যে ৫০ হাজার ৯০ জন সদস্য কর্মস্থলে পরিবার নিয়ে যেতে আগ্রহী। অর্থাৎ ৬০ শতাংশই পরিবার নিয়ে কর্মস্থলে থাকতে চান। জরিপে অংশ নেওয়া অবিবাহিত পুলিশ সদস্য ছিলেন ৩৩ হাজার ৯০৮ জন (২৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ)।

এদিকে প্রস্তাবিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজেদের সন্তানদের স্বেচ্ছায় ভর্তি করাতে চান জরিপে অংশ নেওয়া ১ লাখ ২৪ হাজার ৩৭০ সদস্য, যা মোট অংশগ্রহণকারীর ৯০ শতাংশ। আর ভর্তি করাতে আগ্রহী নন ৫ হাজার ৩৭২ জন, যা মোট অংশগ্রহণকারীর ৪ শতাংশ। এর মধ্যে যারা আগ্রহী তাদের মধ্যে এসপি থেকে তদূর্ধ্ব কর্মকর্তা রয়েছেন ৩৬০ জন (৭৯ শতাংশ), পরিদর্শক থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ৪ হাজার ৮৫৬ জন (৮৩ শতাংশ), কনস্টেবল থেকে এসআই রয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ২০২ জন (৯০ শতাংশ) এবং সিভিল স্টাফ রয়েছেন ১ হাজার ৯৫২ জন (৮১ শতাংশ)।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, সম্ভাব্য শিক্ষার্থী হতে পারে ১ লাখ ৩৬ হাজার ১২৫ জন। এর মধ্যে বর্তমান শিক্ষার্থী আছে ৮২ হাজার ৯৮১ জন এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থী হতে পারে ৫৩ হাজার ১৪৪ জন। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৫৮ হাজার ১১৬ অভিভাবক তাদের ছেলেকে স্বেচ্ছায় প্রস্তাবিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে আগ্রহী। ৫৭ হাজার ৯৬৫ অভিভাবক ভর্তি করাতে আগ্রহী তাদের মেয়ে সন্তানকে। আবার শিক্ষার মাধ্যম নিয়ে মতামত দিয়েছেন ৭৪ হাজার ৮৪ পুলিশ সদস্য। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ তাদের সন্তানদের বাংলা মাধ্যমে, ২৪ শতাংশ ইংরেজি মাধ্যমে, ৯ শতাংশ মাদ্রাসায় এবং ভোকেশনাল এডুকেশনে পড়াতে চান ১ শতাংশ। শিক্ষার মাধ্যম নিয়ে যারা মতামত দিয়েছেন তারা বিভাগ নিয়েও তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। তাদের ৮৭ শতাংশ সন্তানদের বিজ্ঞান বিভাগে, ৭ শতাংশ ব্যবসায়িক বিভাগে এবং ৬ শতাংশ মানবিক বিভাগে পড়াতে আগ্রহী। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৭৪ হাজার ৮৪ জন আবাসন ব্যবস্থা রাখা বা না রাখার বিষয়ে মতামত দিয়েছেন। এর মধ্যে ৪৮ হাজার ৬২১ জন (৬৬ শতাংশ) ছাত্র এবং ছাত্রী উভয়ের জন্যই আবাসিক সুবিধা রাখার বিষয়ে অনুরোধ করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

মধুমতি টেলিভিশনের অন্যান্য খবর