রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে বরাবর ‘চুপ’ থেকেছেন। এমনকি রোহিঙ্গা নিধনে সেনাবাহিনীর ভূমিকাও অস্বীকার করে এসেছেন নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী মায়ানমারের জননেত্রী তথা ‘হেড অফ স্টেট’ আন সান সু কি। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ‘সাখারভ প্রাইজ কমিউনিটি’ থেকে তাঁকে আজীবন সাসপেন্ড করল ইওরোপীয় ইউনিয়নের সংসদ।
সেনাশাসনের বিরোধিতা করায় মায়ানমারে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক বন্দি ছিলেন সু কি। অহিংস আন্দোলন করেই মায়ানমারে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একসময়ে। পরবর্তীকালে বহু মানবাধিকার পুরস্কারে সম্মানিত করা হয় তাঁকে। ইওরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মানবাধিকার পুরস্কার ‘সাখারভ’ দেওয়া হয়েছিল আন সান–কে। তার পর থেকে প্রতিবছর ওই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন তিনি।
মায়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার পর থেকেই সু কি–র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ইওরোপীয় ইউনিয়নের সাখারভ প্রাইজ কমিউনিটি থেকে তাঁকে বহিষ্কারের দাবি তুলতে শুরু করেন অন্যান্য সদস্য। সম্প্রতি ইইউ সংসদ একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘মায়ানমারে রোহিঙ্গা নিধনের ঘটনায় কোনও পদক্ষেপ করেননি মায়ানমারের জননেত্রী তথা ‘হেড অফ স্টেট’ আন সান সু কি। আর সেই কারণেই সাখারভ পুরস্কার বিতরণী কমিটি থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হচ্ছে।’
২০১৫ সালে মায়ানমারে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেই দেশজুড়ে জঙ্গি নিধন অভিযানে নামে সেনা। আর তাই করতে গিয়ে রাখাইন প্রদেশে শুরু হয় নির্বিচারে রোহিঙ্গা গণহত্যা। প্রাণে বাঁচতে সেসময়ে প্রায় সাত রোহিঙ্গা মুসলিম দেশ ছেড়ে বাংলাদেশের দিকে পালায়। কিন্তু স্টেট কাউন্সিলর হিসেবে সেনাবাহিনীর দেখাশোনা করা তাঁর কাজ নয়, তা সত্ত্বেও ওই হত্যালীলার পেছনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা বরাবর অস্বীকার করে এসেছেন সু কি।