মুম্বই পুলিশের কাছে সুশান্তের‌ দিদি প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ দায়ের করলেন রিয়া

প্রতিবেদকের নাম :
  • প্রকাশিত : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৭৮০ প্রিয় পাঠক,সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন এবং মধুমতির সাথেই থাকুন

এবারে রিয়ার পাল্টা মামলা দায়ের সুশান্তের দিদি প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, প্রিয়াঙ্কা সিং সুশান্তকে বিনা প্রেসক্রিপশনে কয়েকটি ওষুধ খেতে বলেন। এবং পরে দিল্লি থেকে একটি জালি প্রেসক্রিপশনের ছবি পাঠান ভাইকে।
সুশান্তের দিদি প্রিয়াঙ্কার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা দায়ের করলেন সুশান্তের প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তী। রিয়া তাঁর অভিযোগে দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালের ডাঃ তরুন কুমারের নামও করেছেন। যিনি রোগী না দেখে, রোগীর সঙ্গে কথা না বলেই প্রিয়াঙ্কা সিংকে একটি প্রেসক্রিপশন পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। যেটা প্রিয়াঙ্কা সুশান্তকে হোয়াটস্যাপের মাধ্যমে পাঠিয়ে বলেছিলেন যেকোনও দোকানে গেলে দিয়ে দেবে। যদি কোনও প্রশ্ন করে, তাহলে যেন বলা হয় যে অনলাইনে চিকিৎসা চলছে। এবং তিনি এও জানিয়েছিলেন যে মুম্বইয়ের নামকরা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেবেন দরকারে। বিষয়টি গোপন থাকবে।
রিয়া এসমস্ত ঘটনার উল্লেখ করে তাঁর রিপোর্টে লেখেন, ‘‌এই অবৈধ প্রেসক্রিপশন পাওয়ার পরে পাঁচদিনের মধ্যেই কিন্তু সুশান্ত মারা যান। প্রিয়াঙ্কা সিং, ডাঃ তরুন কুমার এবং অন্যান্যদের ক্রিয়াকলাপের তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এবং এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যাবে, তাঁরা কীভাবে একজন রোগীকে এই জাতীয় জালি এবং বেআইনি প্রেসক্রিপশনের ব্যবস্থা করে দেন।’‌
মুম্বই পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে জানানো হয়েছে, ভুয়ো মেডিক্যাল প্রেসক্রিপশন লেখা ছিল, সুশান্ত সিং রাজপুত দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে ওপিডির রোগী। কিন্তু আদপে ৮ জুন তিনি মুম্বইয়ে ছিলেন।
গত মাসের শেষের দিকে সংবাদসংস্থা ‘‌ইন্ডিয়া টুডে’– এর মাধ্যমে দিদি প্রিয়াঙ্কার (‌সুশান্ত ডাকতেন সোনুদি বলে)‌ সঙ্গে সুশান্তের কথোপকথনের কিছু স্ক্রিনশট সামনে আসে। যেই দিদির বিরুদ্ধে রিয়া এর আগে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন। ভাই আর দিদির মধ্যে এই কথাবার্তাটি শুরু হয় ৮ জুন সকাল ১০টা নাগাদ। যেদিনই দুপুর ১২ টায় সুশান্তের ফ্ল্যাট ছেড়ে নিজের বাড়িতে চলে যান অভিনেতা রিয়া চক্রবর্তী। চ্যাট প্রকাশ্যে আসার পরে রিয়ার আইনজীবী জানিয়েছিলেন, প্রিয়াঙ্কা সুশান্তের ওষুধ বদলে দিচ্ছিলেন নিজের মতো। যার সবকটাই প্যানিক অ্যাটাকের ওষুধ। চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়েই। যেটা মেনে নিতে পারেননি রিয়া। এর ফলেই সুশান্ত ও রিয়ার মধ্যে সমস্যা শুরু হয়। ও সুশান্ত রিয়াকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। আইনজীবী মানেশিণ্ডে আগেই দাবি তুলেছিলেন, সেক্ষেত্রে ভুয়ো প্রেসক্রিপশন নিয়েও তদন্ত হওয়া উচিত। কীভাবে দিল্লির রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতাল থেকে মুম্বইয়ে সুশান্তের কাছে প্রেসক্রিপশন পাঠানো হয়েছিল?‌‌
চ্যাটের প্রয়োজনীয় অংশ নীচে দেওয়া হল।

প্রিয়াঙ্কা:‌ প্রথম একসপ্তাহ আগে লিব্রিয়াম খাও। তারপর থেকে প্রতিদিন জলখাবার খাওয়ার পরে নেক্সিটো ১০ মিলিগ্রামের একটি করে ট্যাবলেট। আর যখনই প্যানিক অ্যাটাক হবে তখন একটা করে লোনাজেপ খাবে। ওটা হাতের কাছে রেখে দিও।
সুশান্ত:‌ ঠিক আছে সোনুদি।
সুশান্ত:‌ কেউ তো প্রেসক্রিপশন ছাড়া আমাকে ওষুধ দেবে না।
প্রিয়াঙ্কা:‌ দেখছি আমি ম্যানেজ করতে পারি কিনা।
(‌মিসড ভয়েস কল)‌
প্রিয়াঙ্কা: বাবু আমাকে ফোন করো একটা। আমাকে প্রেসক্রিপশনটা পাঠাতে হবে।‌
প্রিয়াঙ্কা: এখানে আমার এক পরিচিত চিকিৎসক বন্ধু আছে। সে তোমাকে মুম্বইয়ের এক চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিতে পারবে। সবটা গোপন থাকবে। চিন্তা নেই। ‌
প্রিয়াঙ্কা: একবার ফোন করো।
(‌এরপর প্রিয়াঙ্কা একটি প্রেসক্রিপশনের ছবি পাঠান)‌
প্রিয়াঙ্কা: বাবু, এটা প্রেসক্রিপশন।
প্রিয়াঙ্কা: এটা দিল্লির। তবে সেটা খুব একটা সমস্যার নয়। কেউ কিছু বললে এটা বলা যাবে যে অনলাইনে চিকিৎসা করা হয়েছে।
সুশান্ত: আচ্ছা, ধন্যবাদ সোনুদি।‌‌

এই চ্যাটের মাধ্যমে রিয়ার বিরুদ্ধে সুশান্তের পরিবারের একটি বড় অভিযোগ মিথ্যে প্রমাণিত হয়। তাঁরা পাটনায় যে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, তাতে জানিয়েছিলেন তাঁরা সুশান্তের মানসিক অবসাদ ছিল বলে জানতেন না। এমনকী তাঁর যে চিকিৎসা চলছিল, সেই তথ্যটুকুও তাঁদের দেননি সুশান্তের প্রেমিকা রিয়া চক্রবর্তী বা আর কেউ। এর আগেও সুশান্তের দিদি নীতু সিংয়ের সঙ্গে সুশান্তের ম্যানেজার শ্রুতি মোদির একটি হোয়াটস্যাপ চ্যাট প্রকাশ্যে এসেছিল। গত বছর ২৬ নভেম্বর তাঁদের কথা হয়েছিল। জানা গিয়েছিল, তাঁকে সমস্ত তথ্য দিয়েছিলেন শ্রুতি। পাটনায় করা অভিযোগে রিয়া চক্রবর্তী ছাড়াও ছিল শ্রুতি মোদি ও আরও তিনজনের নাম। কিন্তু চ্যাটগুলি সামনে আসায় জানা যায় তাঁদের কাছে মানসিক অবসাদের কথা গোপন করা হয়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

মধুমতি টেলিভিশনের অন্যান্য খবর