চীনের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষের পর লাদাখে দাঁড়িয়ে সেনাদের উজ্জীবিত করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। চীনকে কড়া বার্তাও দিয়েছিলেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও ক’দিন পর একই পথে হেঁটেছিলেন। এবার বিজেপি নেতা রাম মাধবও চীনকে প্রচ্ছন্নে একটু কড়া বার্তাই দিলেন। লেহ্তে গিয়ে তিব্বতি সৈন্যের শেষকৃত্যে যোগ দিলেন। উপস্থিত ছিল ভারতীয় সেনাও।
টুইটারে শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার ছবি দিয়েছিলেন রাম মাধব। পরে যদিও ডিলিট করে দেন। লাদাখ সীমান্ত এখন বেশ উত্তপ্ত। কূটনৈতিক এবং সামরিক স্তরে কথা বলেও সুরাহা হচ্ছে না। মনে করা হচ্ছে, এভাবে চীনকে কড়া একটু ধাক্কা দিতে চাইছে বিজেপি সরকার।
মৃত তিব্বতি সেনার নাম নাইমা তেনজিং। তিনি তিব্বতি সেনাদের সিক্রেট স্পেশ্যাল ফ্রন্টিয়ার ফোর্স (এসএফএফ)–এর সদস্য। এই বিভাগ ভারতীয় সেনাবাহিনীর নির্দেশেই কাজ করে। গত সপ্তাহে দক্ষিণ প্যাংগংয়ে পুরনো ল্যান্ডমাইনের ওপর পা পড়ে যায় তেনজিংয়ের। তাতেই মারা গেছেন তিনি।
এই এসএফএফ–এর কাজকর্ম গোপন রাখা হয়। এঁরা পাহাড়, পর্বতে চড়ে যুদ্ধে পারদর্শী। ভারতীয় সেনার নির্দেশে এই বিভাগের সদস্যরা ঠিক কী করেন, জানা যায় না। মূলত তিব্বতি অভিবাসীরাই এই বিভাগের সদস্য। এঁরা সকলেই দলাই লামার ভক্ত এবং সমর্থক। তিব্বতি এবং ভারতের পতাকা উত্তোলন করেন এঁরা।
১৯৫৯ সালে তিব্বতে বিদ্রোহ ব্যর্থ হলে ধর্মগুরু দলাই লামা ভারতে পালিয়ে আসেন। তখন তাঁর সঙ্গে বহু তিব্বতিও ভারতে এসে আশ্রয় নেন। তাঁদের অনেকেই এখন ভারতীয় নাগরিক। মূলত সেই সব তিব্বতি পরিবারের তরুণরাই এই এসএফএফ–এ যোগ দেন। ১৯৬২ সালে ভারত–চীন যুদ্ধের পর এই বাহিনী গড়ে তোলে ভারতীয় সেনা। জানা গেছে, এখন এই বাহিনীর সদস্য সংখ্যা প্রায় ৩,৫০০।