বিদেশি বিনিয়োগে কি দুবাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে ইস্তাম্বুল

প্রতিবেদকের নাম :
  • প্রকাশিত : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮ প্রিয় পাঠক,সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন এবং মধুমতির সাথেই থাকুন

ইরান যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বৈশ্বিক বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এ সুযোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক (ইউএই) বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ দেশে টানতে উদ্যোগ নিচ্ছে তুরস্ক।

সংবাদমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’-এর সূত্র অনুযায়ী, তুরস্কের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছেন, ইস্তাম্বুল ফিন্যান্স সেন্টারের (আইএফসি) মতো অন্যান্য বহুজাতিক কোম্পানিকেও কর–সুবিধাসহ নানা সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে আঙ্কারা।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরান সম্ভবত আবুধাবি ও দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক কোম্পানি ও আর্থিক কেন্দ্রগুলোকে নিশানা করতে পারে। এমন আশঙ্কায় অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম তুরস্কে সরিয়ে নিতে উৎসাহিত হতে পারে।

বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোয় আন্তর্জাতিক ব্যাংক, আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানি, ডেটা সেন্টার ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় ধরনের বিনিয়োগ রয়েছে।

ইস্তাম্বুলের বাণিজ্যিক এলাকা আইএফসিতে ব্যাংক ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে ইতিমধ্যেই নানা কর–সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এখান থেকে বিদেশে পাঠানো (রপ্তানি করা) আর্থিক সেবার আয় পুরোপুরি করমুক্ত। এ ছাড়া এসব লেনদেনে কোনো বাড়তি ফি বা চার্জও দিতে হয় না।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্যও রয়েছে বড় কর–সুবিধা। প্রবাসে কাজের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে তাঁদের মাসিক বেতনের ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত আয়কর ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য কর–সুবিধার আওতা আরও বৃদ্ধি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে তুর্কি সরকার। নতুন নিয়মে বিদেশে উৎপাদিত পণ্য তুরস্কে না এনেই বাইরে কেনাবেচা বা মধ্যস্থতা করলে অর্জিত আয়ের ৫০ শতাংশ কর ছাড় দেওয়া হতে পারে।

তুরস্কে বিদেশি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ার কিছু প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ইস্তাম্বুলে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) আয়োজনে ৪০ জন বিশ্বখ্যাত প্রধান নির্বাহীর (সিইও) সঙ্গে বৈঠক করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। এসব কোম্পানির সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ শতকোটি ডলার।

এই আয়োজনটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ২০০৯ সালের পর এরদোয়ান আর ডব্লিউইএফের দাভোস সম্মেলনে অংশ নেননি। সে সময় গাজায় ফিলিস্তিনিদের হত্যার প্রতিবাদে ইসরায়েলের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেজের সঙ্গে প্রকাশ্য বিতণ্ডার জেরে তিনি সম্মেলন বর্জন করেছিলেন।

ইস্তাম্বুলের এই বৈঠকের অন্যতম আয়োজক ছিলেন বিশ্বের বৃহত্তম সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরকের প্রধান নির্বাহী ল্যারি ফিঙ্ক। ডব্লিউইএফের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী অ্যালোইস জুইঙ্গি বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উৎপাদন খাতে তুরস্কের কৌশলগত ভূমিকা ক্রমেই বাড়ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

মধুমতি টেলিভিশনের অন্যান্য খবর