ক্যাসিনো কাণ্ড: স্থবিরতা কাটেনি ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০
  • ৩৪৯ প্রিয় পাঠক,সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন এবং মধুমতির সাথেই থাকুন

ক্যাসিনো কাণ্ডের এক বছর পেরিয়ে গেলেও, স্থবিরতা কাটেনি ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের অপকর্মের সাজা ভোগ করছে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি। চরম অর্থ সংকটে থাকা ক্লাবটি চায় ঘুরে দাঁড়াতে। সরকারের কাছে তাদের আকুল আবেদন একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা হোক ক্লাব ফুটবলে।

ক্যাসিনো পরবর্তী এক বছরে কেমন আছে ক্লাবগুলো? এ যেন ঐতিহ্যে পচন। তা এতটা গভীরে চলে গিয়েছে সেখান থেকে সহসা পরিত্রাণের উপায় নেই। পারেনি ওয়ান্ডারার্সও। আর তাই ক্যাসিনো কাণ্ডের এক বছর পেরিয়ে গেলেও কোন কুল কিনারা হয়নি। এখনও ক্লাব ফটকে ঝুলছে সরকারি তালা। সেটা কবে খুলবে তা জানা নেই কারো। এর মাঝেই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে তাদের কার্যক্রম।

গেল বছর ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনো কাণ্ডে অভিযুক্ত হয় ওয়ান্ডারার্স। এই নিষিদ্ধ খেলা সেখানে চলছিলো আরো বছর দুয়েক আগ থেকে। এর বিনিময়ে প্রতিদিন ৩০ হাজার টাকা করে দেয়া হতো ক্লাব কর্তৃপক্ষকে। পরে তা পঞ্চাশ হাজারে উন্নীত হয়। দুই বছরে যে টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় তিন কোটির কাছাকাছি। কিন্তু সেই অর্থের কোন হদিস নেই।

ক্যাসিনোর অন্ধকার গলিতে ঢুকে যাওয়া ওয়ান্ডারার্সের সেই কমিটির এখনও অনেকেই আছেন দায়িত্বে। কিন্তু তাদের দাবী সেটা পরিচালনা করতো অভ্যন্তরীণ গেম কমিটি। যারা ইভেন্ট নিয়ে কাজ করতো তার সঙ্গে এর কোন সম্পৃক্ততা নেই। পাশাপাশি এটাও দাবী তাদের এই দায় কোনভাবেই এড়াতে পারে না সভাপতি মোল্লা আবু কাউসার এবং সাধারণ সম্পাদক জয় গোপাল।

১৯৪০ এর দিকে ওয়ান্ডারার্সের হয়ে ফুটবল খেলেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। শেখ কামাল ছিলেন ক্লাবটির বাস্কেটবল খেলোয়াড়। বহু দেশ বরেণ্য ফুটবলার আছেন যারা ওয়ান্ডারার্সের জার্সি গায়ে চাপিয়ে গর্ব বোধ করতেন। তবে সবই এখন ধুসর অতীত। বর্তমানে নানা সংকটের মাঝেও ক্লাবটি পরিচালনা করছে ১০ থেকে ১১ টি ইভেন্ট।

এখন ওয়ান্ডারার্সের দায়িত্ব নিতে চায় না কেউই। এমনকি ক্যাসিনো কাণ্ডে নাম আসা মোল্লা আবু কাউসারও না। বলা যায় অভিভাবক শূন্য একটি ক্লাব এখন ওয়ান্ডারার্স। তবে দু-চারজন আছেন যারা চান ঘুরে দাঁড়াতে। সরকারের কাছে আকুল আবেদন তাদের। একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার জন্য। যাতে পরবর্তীকে কেউ অপরাধ করে আর পার না পেয়ে যায়।

ক্যাসিনো পরবর্তী সময়ে ফুটবল ও ক্রিকেটসহ তিনটি ইভেন্ট পরিচালনা করেছে ওয়ান্ডারার্স। তবে সামনের বছর বক্সিং, হকিসহ আরো বেশ কিছু ডিসিপ্লিন চালু করতে চান কর্তাব্যক্তিরা।

Please Share This Post in Your Social Media

মধুমতি টেলিভিশনের অন্যান্য খবর