ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনে ‘শেকল ভাঙার পদযাত্রা’

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২০
  • ৮৫৩ প্রিয় পাঠক,সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন এবং মধুমতির সাথেই থাকুন

ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে পুরো বাংলাদেশ। দলমত-নির্বিশেষে তারকারাও উঠে এসেছে এ আন্দোলনে। তবে এই আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্রে আছে সব স্তরের তরুণ শিক্ষার্থীরা। এই শিক্ষার্থীদের তেমনি একটা আন্দোলন হলো ‘শেকল ভাঙার পদযাত্রা’।

সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ধর্ষণ-নিপীড়ন বৃদ্ধি পাওয়ায় নারীর নিরাপত্তাসহ ১২টি দাবিতে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ‘শেকল ভাঙার পদযাত্রা’ শীর্ষক ব্যানার নিয়ে পদযাত্রা করবে একদল শিক্ষার্থী। পদযাত্রাটি মঙ্গলবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে রাজধানীর শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে ভোররাত ৪টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে।

আয়োজকদের একজন প্রাপ্তি তাপসীকে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনবিষয়ক এই কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কৈশোর পেরোনো সেই দিনগুলো থেকে জীবনের শেষ পর্যন্ত নানা প্রশ্নের শেকলে বন্দি হয়েই নারীদের বেড়ে ওঠা। নারী পুরুষের সমানাধিকার এদেশে কেবল বইয়ের পাতাতেই সীমাবদ্ধ। আজও রাষ্ট্র প্রতিমুহূর্তে ব্যর্থ হয় একজন নারীর সুরক্ষার যথাযথ প্রয়োগ এবং নারীর নিরাপত্তা বিধানে। ধর্ষণ, নির্যাতন, যৌন হয়রানি এবং নিপীড়ন যখন দেশের প্রতিটি জেলায় নিত্যদিন ঘটে চলেছে, তখনও রাষ্ট্র অপরাধীদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ। আর এ কারণেই আমাদের আজকের এই পদযাত্রা।

আয়োজকদের আরও একজন ফারিহা জান্নাত মিম জানান, একটা স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে, মানুষ হিসেবে নারীদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার যে অধিকার তার কার্যকরী প্রয়োগ আমরা অনেক ক্ষেত্রে দেখতে পাই না। নাগরিক হিসেবে নারীদের নিরাপত্তা যেন রাষ্ট্র নিশ্চিত করে সে জন্যই এই পদযাত্রা।’

এই পদযাত্রার মাধ্যমে যে ১২টি দাবি তুলে ধরবে শিক্ষার্থীরা সেগুলো হলো:

১. সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষণ-যৌন সহিংসতার সঙ্গে যুক্তদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক ও ন্যায্য শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

২. আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনে ও সামাজিকভাবে ধর্ষণের সংজ্ঞায়ন সংস্কার করতে হবে।

৩. পাহাড় ও সমতলের সব নারীদের ওপর সব প্রকার যৌন এবং সামাজিক নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।

৪. জাতি-ধর্ম-বর্ণ-বয়স-লৈঙ্গিক পরিচয় নির্বিশেষে যৌন সহিংসতার ক্ষেত্রে যে কোনোভাবেই ‘ভিক্টিম ব্লেমিং’ (দোষারোপ করা/নিন্দা জানানো) বন্ধ করতে হবে। গ্রামীণ সালিস/পঞ্চায়েতের মাধ্যমে ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।

৫. প্রাথমিক লেভেল থেকেই পাঠ্যপুস্তকে যৌন শিক্ষা (গুড টাচ ব্যাড টাচের শিক্ষা, সম্মতি বা কন্সেন্ট-এর গুরুত্ব, প্রাইভেট পার্টস সম্পর্কে অবহিত করা) যোগ করতে হবে।

৬. ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১৫৫(৪) ধারা বিলোপ করতে হবে এবং মামলার ডিএনএ আইনকে সাক্ষ্যপ্রমাণের ক্ষেত্রে কার্যকর করতে হবে।

৭. হাইকোর্টের নির্দেশানুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি, বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতনবিরোধী সেল কার্যকর ও পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। সিডো সনদে বাংলাদেশকে স্বাক্ষর ও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সব আইন ও প্রথা বিলোপ করতে হবে।

৮. মাদ্রাসার শিশুসহ সব শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হলে ৯০ দিনের মাঝে দ্রুততম ট্রাইব্যুনালে অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।

৯. জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুমোদিত পাঠ্যপুস্তকে নারী অবমাননাকর বার্তা প্রকাশ ও প্রচার করা নিষিদ্ধ করতে হবে।

১০. রাস্তাঘাটে নারীদের অযথা পুলিশি ও অন্যান্য হয়রানি বন্ধ করতে হবে। গণপরিবহনে নারীদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে।

১১. ধর্মীয় বক্তব্যের নামে অনলাইনে ও অফলাইনে নারী অবমাননাকর বক্তব্য প্রচার বন্ধ করতে হবে।

১২. যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে প্রান্তিক অঞ্চলের নারীদের সুবিধার্থে হটলাইনের ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

নারীদের এ পদযাত্রায় অংশ নিতে পারবেন যেকোনো ‘নারী’। আপনি যদি মুক্তি চান-স্বাধীনতা চান; একজন স্বাধীন নাগরিকের মতো অধিকার চান, এই পদযাত্রা আপনার জন্যই!

Please Share This Post in Your Social Media

মধুমতি টেলিভিশনের অন্যান্য খবর