ভুয়া ওয়ারেন্ট ও মামলাবাজ চক্রের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব শতাধিক পরিবার। বাদী ভাড়া করে মামলা দিয়ে আপসের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি। এর সঙ্গে আদালতের কিছু অসাধু কর্মচারী ও আইনজীবী জড়িত। সময় সংবাদের অনুসন্ধানে যার সত্যতা মিলেছে। বিষয়টি স্বীকার করে আইনজীবীরা বলছেন, কাউকে গ্রেফতারের আগে ওয়ারেন্টটি আসল কিনা তা যাচাইয়ের পরামর্শ দিয়েছেন।
কোথাও ন্যায়বিচার না পেলে আদালতের দ্বারস্থ হন সাধারণ মানুষ। কিন্তু সেই আদালতকে ঘিরে সক্রিয় ভুয়া ওয়ারেন্ট ও মামলাবাজচক্র। চক্রটি প্রথমে হয়রানির চুক্তি নেয়। এরপর বাদী ভাড়া করে জেলায় জেলায় দেয় ভুয়া মামলা। এ ছাড়া ভুয়া ওয়ারেন্ট তৈরি করে ফাঁসানো হয় প্রতিপক্ষকে। আপসের নামে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা।
একজন বলেন, যাকে ফাঁসানো হবে তার প্রোফাইল অনুযায়ী তাকে ফাঁসানো হবে। একটি ধর্ষণ মামলার কাগজপত্র যাচাইয়ে নারায়ণগঞ্জে যায় সময় সংবাদ। মামলায় দেয়া ঠিকানাটি পাওয়া যায়নি। এমনকি মামলায় যাদের সাক্ষী করা হয়েছে তাদেরও কোনো হদিস মিলেনি।
অভিযোগ আছে, কিছু অসাধু আইনজীবী ও আদালতের কর্মচারী ভুয়া ওয়ারেন্ট ও মামলাবাজচক্রের সঙ্গে জড়িত। সত্যতা যাচাইয়ে মক্কেল সেজে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে এর প্রমাণ মিলে। একজন আইনজীবী বলেন, মামলার যা মনে তাই হোকগা। এক মহিলারে দিয়ে ধর্ষণ মামলা করায় দিলাম। এই কোয়ালিটি আর কি। দু-চার মাস জেল খাটল।
কিছু অসাধু আইনজীবী জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি স্বীকার করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আবু। তিনি বলেন, আছে এমন কিছু আইনজীবী। থানায় ওয়ারেন্ট গেলে গ্রেফতারের আগে যাচাই করা এবং চক্রটি যেন আদালতকে ব্যবহার করতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আইনজীবীরা।