প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় এলো বিদেশী কোম্পানি

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২০
  • ৪৬২ প্রিয় পাঠক,সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন এবং মধুমতির সাথেই থাকুন

প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় এলো বিদেশী কোম্পানি। ফলে দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের মতো বিদেশী শিল্প প্রতিষ্ঠানও এখন থেকে স্বল্প সুদে ঋণ পাবে। এ বিষয়ে বিদ্যমান নীতিমালা শিথিল করেছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে। গতকাল বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে ব্যাংকগুলো নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশীয় সব ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে রফতানি-বাণিজ্যে জড়িত বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক মিলে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষিত হয় । এর মধ্যে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প ঋণে উদ্যোক্তাদের সুদ পরিশোধ করতে হবে ৪ শতাংশ, বাকি ৫ শতাংশ ব্যাংককে সরকার ভর্তুকি দেবে। আর বৃহৎ ও সেবা খাতে সাড়ে ৪ শতাংশ সুদে উদ্যোক্তা ঋণ পাবে, আর বাকি সাড়ে ৪ শতাংশ সরকার ব্যাংককে ভর্তুকি দেবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর জন্য স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার জন্য গত এপ্রিল মাসে এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করা হয়েছিল। কিন্তু বেশির ভাগ ব্যাংকই উদ্যোক্তাদের ঋণ দিচ্ছে না। দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য এ নীতিমালা বেশির ভাগ ব্যাংকই বাস্তবায়ন না করায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। গত সপ্তাহে এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এক টাকাও ঋণ প্রদান না করায় ২৪টি ব্যাংককে শোকজ করা হয় এবং ২৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয়।

ঋণ না দেয়ার তালিকায় সবচেয়ে বেশি অনাগ্রহ দেখিয়েছে বিদেশী ব্যাংকগুলো। ৯টি বিদেশী ব্যাংকের মধ্যে দুটি ব্যাংক যৎসামান্য ঋণ দিয়েছে। বাকি ৭টি ব্যাংক এক টাকাও ঋণ দেয়নি। এ দিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা মোতাবেক আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই শতভাগ ঋণ প্রদান করতে হবে। অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মোট লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১০ শতাংশ ঋণ দেয়া হয়েছে। ফলে বাকি ৯০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে হবে আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে।

এ দিকে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অন্তত অর্ধেক পূরণ করতে ঋণ বিতরণের আওতা বাড়ানো হয়েছে। আগে প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার অনুমোদন ছিল। কিন্তু গতকাল ঋণ বিতরণের আওতা বাড়িয়ে এখন বিদেশী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গতকাল জারি করা এক সার্কুলারে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে বিদেশী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কমে গেছে আর্থিক সক্ষমতা। বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় বিদেশী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জারিকৃত সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে আলোচ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ প্রদানের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিদেশী কোম্পানিগুলোর স্বল্প সুদে ঋণের আওতায় আনায় তাদের উৎপাদন ব্যয় আরো কমে যাবে। এতে অসম প্রতিযোগিতায় পড়বেন তারা। পাশাপাশি বর্ধিত হারে মুনাফা করে বেশির ভাগ মুনাফাই বিদেশীরা নিয়ে যাবে। তাই এ বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

মধুমতি টেলিভিশনের অন্যান্য খবর