ইস্টবেঙ্গলের এক্সট্রা অর্ডিনারি বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে ক্লাবের স্পোর্টিং রাইটস নতুন ইনভেস্টারকে হস্তান্তরিত করার সিদ্ধান্ত পাশ হলেও সংশোধনী খসড়ার কয়েকটি বিষয় নিয়ে সদস্যরা বিরোধিতা করেন।
তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ক্লাবের বর্তমান নিয়মকানুনের সঙ্গে নতুন চুক্তিপত্রের শর্তের সঙ্ঘাত দেখা দিলে চুক্তিপত্রের শর্তকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সদস্যরা এর প্রতিবাদ করেন। জানান, ক্লাবের সংবিধানের নিয়মই বহাল থাকুক। দ্বিতীয়ত, সংশোধনী খসড়াতে রয়েছে, ক্লাব সদস্যদের অধিকারে কোনও প্রভাব না পড়লেও সদস্য সংক্রান্ত যাবতীয় ক্ষমতা বোর্ড অফ ডিরেক্টর্সের অধীনে চলে যাবে। এটা নিয়েও মঙ্গলবার সন্ধের সভা থেকে গলা চড়ান লাল–হলুদ সদস্যরা। তাঁদের বক্তব্য, ক্লাব সদস্য সম্পর্কিত সব ক্ষমতা থাকুক কার্যকরী কমিটির হাতে। পাশাপাশি, ফুটবল–সহ ক্রিকেট, হকি, অ্যাথেলটিক্স বিভাগের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা সচিব নির্বাচনের ক্ষমতাও থাকুক কার্যকরী কমিটির হাতে। নতুন বোর্ড যেন কোনও হস্তক্ষেপ না করে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এদিনের সভায় সদস্যদের বিরোধিতার গুরুত্ব কতটা? এক কর্তা বলেন, ‘আজকের মিটিংয়ের মিনিটস ইনভেস্টারকে মেল করে পাঠানো হবে। মানবে কি মানবে না সেটা ওরা জানাবে।’ শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, ‘কোনও বিষয়ে ক্লাব মতামত জানাতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বোর্ড অফ ডিরেক্টর্স।’
সভায় হাজির ছিলেন সুভাষ ভৌমিক, ভাস্কর গাঙ্গুলির মতো প্রাক্তনরা। সুভাষ বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে আমাদের অনেক কিছু মানিয়ে নিতে হয়। বর্তমান সময়ে অর্থই সব। মালিকের কথা অনুযায়ী চলতে হয়। কর্তাদের ওপর ভরসা রাখুন। যা হবে ভালর জন্যই হবে। সবসময় আবেগ দিয়ে চলে না। বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সাযুজ্য রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।’ ভাস্কর বলেন, ‘ইস্টবেঙ্গল হল সদস্যদের ক্লাব। সদস্যদের খারাপ হবে, এমন কাজ কেউ কখনও করবে না।’ সচিব কল্যাণ মজুমদার বলেন, ‘আজকের সভায় যেভাবে বিরোধিতার সুর উঠল, তা দেখে ভাল লাগছে। সদস্যরা মুক্তমনে নিজেদের মতামত জানিয়েছেন। এটা তাঁদের অধিকার। কখনই ক্লাবের ঐতিহ্য, পরম্পরা ভুলে যেতে পারি না। এগুলো সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে চলতে হবে। আশ্বস্ত করছি, আগামী দিনে স্বপ্নভঙ্গ হওয়ার কোনও কারণ থাকবে না।’ ক্লাবের স্থাবর–অস্থাবর সম্পত্তি–সহ স্পোর্টিং রাইটসের প্রস্তাব পাশ হয়ে যায়। এক সদস্য বলেন, ‘ক্লাবের কার্যকরী কমিটি গুরুত্বহীন হয়ে পড়বে, এটা মেনে নিতে পারছি না। ফুটবল বাদ দিয়ে অন্য খেলার স্পোর্টিং রাইটস না দিলে ভাল হত।’
অন্যদিকে, ইনভেস্টারের নজরে অ্যান্থনি স্টোকস এবং স্কট নেভিল। চলতি মরশুমে পার্সিপোলিস থেকে স্কটল্যান্ডের লিভিংস্টোনে খেলেছিলেন স্টোকস। কিন্তু মরশুমের মাঝপথে ক্লাব ছেড়ে দেন ৩২ বর্ষীয় এই স্ট্রাইকার। তাঁর জীবনপঞ্জি নিয়ে আলোচনা চলছে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনাল, শেফিল্ড ইউনাইটেড, ক্রিস্টাল প্যালেসে খেলেছেন। সেল্টিকেও অনেকটা সময় কাটিয়েছেন। ১৩৫ ম্যাচে ৫৮ গোল রয়েছে তাঁর নামের পাশে। এ ছাড়াও ব্রিসবেন রোরের প্রাক্তন তারকা ডিফেন্ডার স্কট নেভিলের প্রতি আগ্রহী ইস্টবেঙ্গলের ইনভেস্টার। অস্ট্রেলিয়া এ লিগে খেলেছেন। ৩১ বছরের ডিফেন্ডার নিউক্যাসেল জেটস, পার্থ গ্লোরি, ওয়েস্টার্ন সিডনির হয়ে খেলেছেন। তঁার সঙ্গে কথাবার্তা অনেকটাই এগিয়েছে। দলের যা অবস্থা, বিদেশি ডিফেন্ডার খুবই জরুরি। বিদেশি ডিফেন্ডার নিয়ে অনেক ভাবনা–চিন্তা করে এগিয়েছে ইনভেস্টারের প্রতিনিধিরা।
শতবর্ষের ইস্টবেঙ্গলকে এদিন শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছে ইন্টার মিলান। এই ক্লাব ছাড়াও বেনফিকা, চার্লটল অ্যাথলেটিক ক্লাব শুভেচ্ছা জানিয়েছে লাল–হলুদকে।