আশা জাগাচ্ছে জনসনের টিকা

অন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • প্রকাশিত : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৭৬২ প্রিয় পাঠক,সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন এবং মধুমতির সাথেই থাকুন

কোভিড প্রতিরোধে আশা জাগাচ্ছে মার্কিন সংস্থা জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা। দেখা গেছে, ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রাথমিক পর্বেই নোভেল করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে এই টিকা বেশ জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছে। ফলে আরও একটা টিকা নিয়ে উৎসাহিত বিজ্ঞানীরা। এরই পাশাপাশি, কোভিড নিয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি বিভাগের কর্তা মাইক রায়ান। তঁার হুঁশিয়ারি, করোনার প্রকোপে বিশ্বজুড়ে ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সতর্ক না হলে আগামিদিনে মৃতের সংখ্যা ২০ লক্ষে পৌঁছে যেতে পারে।
এদিকে, সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার সিইও আদার পুনাওয়ালা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আগামী এক বছরে ভারত সরকার কি ৮০ হাজার কোটি টাকা খরচ করতে পারবে? প্রতিটি ভারতবাসীকে টিকা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রকের ওই পরিমাণ টাকাই দরকার। এটাই আমাদের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ।’ পুনাওয়ালা বলেন, ‘আমি এই প্রশ্নটা করছি, কারণ টিকা তৈরির ব্যাপারে দেশ এবং দেশের বাইরের মানুষের সুরক্ষা ও বিলিবণ্টন নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে, পথও দেখাতে হবে।’ উল্লেখ্য, ভারতে করোনার সেরামের তৈরি টিকা কোভিশিল্ডের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে। জুলাই মাসে পুনাওয়ালা বলেছিলেন, তৈরি হয়ে গেলে ভারতে প্রতিটি টিকার দাম পড়বে হাজার টাকা। দেশে প্রতি মাসে ৩ কোটি টিকা তৈরি হলে দেশের প্রতিটি মানুষকে টিকা দিতে দু’বছর লাগবে। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে টিকা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ভারত সরকারের রয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সংস্থা মডার্না ও ফাইজারের পাশাপাশি টিকা তৈরিতে নেমে পড়েছে জনসন অ্যান্ড জনসনও। এই সংস্থার টিকার নাম এডি২৬.কোভ২.‌এস। এই টিকার দুটি আলাদা ডোজ নেওয়ার পরেও কোনও সমস্যায় পড়তে হয়নি স্বেচ্ছাসেবকদের। জানানো হয়েছে মেডিক্যাল ওয়েবসাইট মেডআরএক্সআইভি–তে প্রকাশিত প্রাথমিক রিপোর্টে। একটি ডোজে কতটা কাজ হয় এবং দু’টি ডোজে কী ফল মেলে, এখন তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তবে বয়স্ক কোভিড রোগীদের ক্ষেত্রে এই টিকা সমানভাবে কার্যকর কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই সপ্তাহেই ৬০ হাজার জনের ওপর টিকার পরের ধাপের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকা তৈরিতে সাহায্য করছে মার্কিন সরকার। সংস্থার আশা, এই বছরের শেষে বা আগামী বছরের গোড়ায় তৃতীয় পর্বের পরীক্ষার ফল জানা যাবে। এ নিয়ে আমেরিকার মোট ৪টি টিকা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছে গেল।
টিকা নিয়ে অগ্রগতির মধ্যেই কোভিড সম্পর্কে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন হু–এর কর্তা মাইক রায়ান। শনিবার ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘বিপদ এখনও সামনে। ১০ লক্ষ সংখ্যাটা ভয়াবহ। মৃতের সংখ্যা আরও ১০ লক্ষ পূর্ণ হওয়ার দিকে পা বাড়ানোর আগে ফিরে দেখা উচিত, অতিমারী রুখতে আমরা কতটা কার্যকরী ভূমিকা নিয়েছি। আগামী ৯ মাস ভ্যাকসিনের জন্য অপেক্ষা না করে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’‌ চীন করোনা ভাইরাসের বিপদ নিয়ে হু’‌কে সতর্ক করেছিল ঠিক ৯ মাস আগে। ৩০ জানুয়ারি বিশ্ব জুড়ে করোনাকে ‘পাবলিক হেলথ এমার্জেন্সি’ ঘোষণা করে হু। আমেরিকার অভিযোগ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাফিলতিতেই করোনা অতিমারীর আকার নিয়েছে। হু পাল্টা দাবি করেছে, আমেরিকা–সহ বহু দেশ তাদের সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেয়নি। বিশ্বজুড়ে এর কবলে পড়েছেন ৩ কোটি ৩৪ লক্ষের বেশি মানুষ।‌

Please Share This Post in Your Social Media

মধুমতি টেলিভিশনের অন্যান্য খবর