‘সত্যনিষ্ঠ’ সাংবাদিক বলতে যা বোঝায়, সেটিই ছিলেন তিনি। ঘটনার ভেতরের ঘটনা বের করে আনতে পারতেন। অনুসন্ধানী ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় আতাউস সামাদের জুড়ি ছিল না। তার কোনো প্রতিবেদন নিয়ে বিতর্ক হয়নি, তিনি জীবনভর সুনাম বজায় রেখে সাংবাদিকতা করেছেন। শনিবার সকালে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজের আয়োজনে সাংবাদিক আতাউস সামাদ স্মরণে ভার্চ্যুয়াল আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
সভায় নেতৃবৃন্দ আতাউস সামাদের সৃত্মিচারণ করেন। এবং সভা শেষে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, বিএফইউজের সভাপতি রুহল আমীন গাজী, জাতীয় প্রেস ক্লাব ও বিএফইউজের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, বিএফইউজের মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন, বিএফইউজের সিনিয়র সহ-সভাপতি নূরুল আমীন রোকন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-ডিআরইউ’র সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, ডিইউজের সহ-সভাপতি শাহীন হাসনাত, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোরসালিন নোমানী, সাবেক যুগ্মসম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম, সিনিয়র সাংবাদিক আবু মুস্তাকিম, ডিইউজের দফতর সম্পাদক ডিএম আমিরুল ইসমাম অমর, খন্দকার আলমগীর হোসেন প্রমুখ।
রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আতাউস সামাদ সাংবাদিকতায় বস্তুনিষ্ঠতাকে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতেন। কোনো বিষয়ে খটকা লাগলে তিনি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত লিখতেন না। সব কিছু নিখুঁতভাবে করতে চাইতেন তিনি। কাজের ক্ষেত্রে তিনি শতভাগ সচেতন থাকতেন৷ তার অভিধানে ফাঁকিবাজি বলে কোন শব্দ ছিলনা। তাই তার সাংবাদিকতা নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে নি। সবার কাছে অন্য ধরণের গ্রহণযোগ্যতা ছিল তার।
আতাউস সামাদের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, সামাদ ভাই বলতেন, ‘গণতন্ত্র আছে, সাংবাদিকতা আছে; গণতন্ত্র নেই, সাংবাদিকতা নেই’। এই দৃঢ় বিশ্বাস থেকে তিনি সবসময় গণতন্ত্রের পক্ষে ছিলেন।
আতাউস সামাদ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতেন। মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য কাজ করে গেছেন তিনি। সাংবাদিকদের দাবি আদায়ের জন্যও কাজ করেছেন। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়েছেন। এদেশের মানুষ বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, মূল্যবোধ ও পাণ্ডিত্যের জন্য সারাজীবন আতাউস সামাদকে স্মরণ করতে হবে।
রুহুল আমিন গাজি বলেন, সাংবাদিকতা তথা গণমাধ্যমের যেকোনো সঙ্কট ও দুঃসময়ে সবার আগে এগিয়ে এসেছেন আতাউস সামাদ। অসাংবিধানিক সরকার, স্বৈরশাসন, ফ্যাসিবাদের দিনগুলোতে দৈনিক আমার দেশ ও এনটিভিকে বাঁচিয়ে রাখার কঠিন সংগ্রামে তিনি বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছেন।চরম বিপদের মুখেও এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সাংবাদিকদের আগলে রেখেছেনপরম আদরে। হুমকিকে তিনি পরোয়াই করেননি কখনো।
তিনি বলেন, আতাউস সামাদ অনেক ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম রিপোর্টার ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে সাংবাদিক হিসেবে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। ঢাকায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধাদের নানা কাজে সহায়তা করেন
আতাউস সামাদ বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস নিউজ-এর সংবাদদাতা হিসেবে কাজ শুরু করেন মার্শাল ল’ চলাকালীন ১৯৮২ সালের অক্টোবর থেকে। তার সাহসী বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্টগুলো সামরিক সরকারের জন্য অনেক ক্ষেত্রেই ছিল অস্বস্তিদায়ক ও বিব্রতকর। এসময় বিবিসি ‘হাসিনা অন্তরীণ : খালেদা আত্মগোপনে : জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের হুঁশিয়ারি’ এবং ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি’ শিরোনামে দু’টি প্রতিবেদন সম্প্রচার করে। নিরাপত্তার খাতিরে তাকে আত্মগোপনে চলে যেতে হয়। আত্মগোপনে থেকেও তিনি নিয়মিত বিবিসিকে আসন্ন গণঅভ্যুত্থান ও সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্যাবলি জোগান দেন। ১৯৮৭ সালে তাকে গ্রেফতার করা হয়।