কোভিডের বিরুদ্ধে দীর্ঘ এক মাসের লড়াই শেষ। শুক্রবার চলে গেলেন এস পি বালাসুব্রহ্মণ্যম। বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তাঁর একের পর এক হিট গানে পা মিলিয়েছিল আক্ষরিক অর্থেই কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী। ঝুলিতে পদ্মশ্রী, পদ্মবিভূষণ সহ অসংখ্য পুরস্কার। অগণিত ভক্তের ভালোবাসা। এসবের বাইরেও অনেকটা জুড়ে রয়েছেন বালাসুব্রহ্মণ্যম। অনেক অজানা গল্প রয়ে গিয়েছে।
* ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয়েছিলেন: ইচ্ছে ছিল ইঞ্জিনিয়ার হবেন। অনন্তপুরের জেএটিইউ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু টাইফয়েড হওয়ায় মাঝপথে পড়া ছেড়ে দেন। ততদিনে অবশ্য বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়ে গেছেন।
* প্রথম অডিশন: অনেক মিউজিক সংস্থার দরজায় ঘুরেছিলেন। একটা সুযোগের জন্য। প্রথমবার অডিশনে পিবি শ্রীনিবাসের ‘নিলাভে এন্নিদাম নেরুনগাড়হে’ গানটি গেয়েছিলেন। ১৯৬৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর সিনেমার গানে হাতেখড়ি। তেলুগু ছবি ‘শ্রী শ্রী শ্রী মর্যাদা রামান্না’–তে প্লেব্যাক করেছিলেন।
* গিনেস রেকর্ড: জীবৎকালে ৪০ হাজার গান গেয়েছেন। তাতেই গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ডে নাম উঠেছে। হিসেব করলে বছরে ৯৩০টি গান গেয়েছেন। দিনে তিনটি করে। রেকর্ডই বটে।
* ১২ ঘণ্টায় ২১টি গান: রেকর্ড আরও রয়েছে। কন্নড় কম্পোজার উপেন্দ্র কুমারের জন্য ১২ ঘণ্টায় ২১টি গান গেয়েছিলেন। এক দিনে ১৯টি তামিল গান রেকর্ড করেছিলেন। আর ১৬টি হিন্দি গান রেকর্ড করেছিলেন এক দিনে।
* ডাবিং শিল্পী: ঘটনাক্রমে ডাবিং শিল্পীও হয়ে উঠেছিলেন। কে বালাচন্দরের ছবি ‘মন্মধ লিলা’ ছবিতে হাতেখড়ি। ওই ছবির তেলুগু সংস্করণ ‘মন্মথ লিলাই’–তে কমল হাসানের ডাবিং করেন এসপি। অনিল কাপুর, গিরীশ কারনাড়, রজনীকান্ত, নাগেশের হয়েও ডাবিং করেছেন তিনি। ‘দশবতরম’–এর তেলুগু সংস্করণে কমল হাসানের সাতটি চরিত্রের ডাবিং করেন তিনি। ছবিতে দশটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি।
* ছ’বার জাতীয় পুরস্কার: বিভিন্ন ভাষায় গান গেয়ে ছ’বার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। ২০০১ সালে পদ্মশ্রী এবং ২০১১ সালে পদ্ম ভূষণ পুরস্কার পেয়েছেন।