সহস্রাধিক চীনা নাগরিকের ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

নিজস্ব প্রতিবেদক :
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৬৫১ প্রিয় পাঠক,সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন এবং মধুমতির সাথেই থাকুন

সহস্রাধিক চীনা নাগরিকের ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত চীনা গুপ্তচরবৃত্তির বিষয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, ২০২০ সালের ২৯ মে প্রেসিডেন্টে ট্রাম্পের এক ঘোষণায় নিরাপত্তা উদ্বেগজনিত কারণে চীন থেকে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ স্থগিত করার কথা বলা হয়। মূলত প্রেসিডেন্টের ওই ঘোষণার ফলেই এখন এ ব্যাপারে কঠোর হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

পররাষ্ট্র দফতরের একজন মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের ঘোষণার আওতায় ২০২০ সালের ৮ মে এক হাজারের বেশি চীনা নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়।

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শাদ উলফ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও গবেষণা পাচারের আশঙ্কায় আগে থেকেই চীনের মিলিটারি ফিউশন স্ট্র্যাটেজির সঙ্গে যুক্ত গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ভিসা দেওয়া হচ্ছিল না।

শাদ উলফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চীনকে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত গবেষণা চুরিসহ অনৈতিক বাণিজ্যের দায়ে অভিযুক্ত করেছে। মার্কিন শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা দেওয়ার যে ব্যবস্থা রয়েছে বেইজিং তার অপব্যবহার করছে।

চীনের অনৈতিকতার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি উইঘুর মুসলমানদের সঙ্গে বেইজিং-এর বর্বর আচরণের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বন্দি উইঘুরদের দিয়ে বাধ্যতামূলক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদনের অভিযোগে সম্প্রতি চীনের জিনজিয়াং প্রদেশ থেকে পণ্য আমদানি বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাবিত এই পণ্য তালিকায় থাকছে তুলা ও টমেটো থেকে উৎপাদিত পণ্য। চীনের শুল্কমুক্ত রফতানি তালিকার অন্যতম প্রধান পণ্য এই দুটি।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও বেইজিং-এর মধ্যকার ক্রমবর্ধমান বৈরিতার পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া লাখ লাখ চীনা শিক্ষার্থীকে। মার্কিন বিমানবন্দরগুলোতে এখন চীন থেকে যাওয়া শিক্ষার্থীদের সন্দেহভাজন প্রযুক্তি পাচারকারী হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশে ফেরার সময় তাদের ওপর শ্যেন দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

চীনা সরকারি বৃত্তি নিয়ে গবেষণা করতে আসা ১৫ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে চুক্তি মাঝপথে বাতিল করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়। এ ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরেছেন চীনা শিক্ষার্থী কিথ ঝাং (ছদ্মনাম)। ওয়াশিংটনে বিবিসি-র চীনা সার্ভিসের সংবাদদাতা ঝাও ইন ফেং-এর কাছে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন তিনি।

বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানে উঠার জন্য অপেক্ষা করছিলেন ঝাং। হঠাৎ বোর্ডিং ডেস্কে তলব করা হলে তিনি ভেবেছিলেন রুটিন নিরাপত্তার জন্যেই ডাকা হচ্ছে তাকে। কিন্তু গিয়ে দেখলেন দুজন সশস্ত্র সীমান্ত এজেন্ট পুলিশ তার জন্য অপেক্ষা করছে। দেখে ভয় পেয়ে যান তিনি।

কিথ ঝাং-এর ভাষায়, ‘তারা আমাকে এমনভাবে জেরা শুরু করলো যেন আমি যেন আমি প্রযুক্তি চুরি করতেই আমেরিকাতে পড়তে এসেছিলাম।’

২৬ বছরের পিএইচডি ছাত্র ঝাং যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগে এক বছরের জন্য একটি গবেষণা প্রকল্পে কাজ করতে গিয়েছিলেন। দেশে ফেরার আগে দু’ঘণ্টা ধরে তাকে যেভাবে জেরার মুখোমুখি হতে হয় তা স্বপ্নেও ভাবেননি তিনি।

মার্কিন পুলিশ বের করার চেষ্টা করছিল তার সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কোনও সম্পর্ক রয়েছে কিনা। শুধু ঝাং নয়, যুক্তরাষ্ট্রে যে প্রায় চার লাখের মত চীনা শিক্ষার্থী বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন, তাদের অস্বস্তি দিন দিন বাড়ছে।

দুই দেশের মধ্যে শত্রুতার পারদ যত চড়ছে, তারা মনে করছেন তাদের প্রত্যেককেই এখন সন্দেহভাজন চর হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এ অবস্থা তৈরি হল কেন?

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই-এর পরিচালক ক্রিস্টোফার রে সম্প্রতি এক সেমিনারে বলেছেন, তারা এখন প্রতি ১০ ঘণ্টায় এমন অন্তত একটি সম্ভাব্য গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনা খুঁজে পাচ্ছেন যার সঙ্গে চীনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

জুলাইয়ে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে চীনা কনস্যুলেট বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়ার সময় মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ওই কনস্যুলেটটি গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

মধুমতি টেলিভিশনের অন্যান্য খবর