সীমিত লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে বরিশালে সড়কে সড়কে মানুষের ভিড় বেড়েছে। তবে বন্ধ ছিল গণপরিবহণ। আর এর কারণে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে চলাচল করছে রিক্সা, ব্যাটারি চালিত রিক্সা, অটোরিকশা এবং থ্রি হুইলার। যদিও তা নগরীর আশপাশ দিয়ে। আর এসব ছোট যানে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
অপরদিকে প্রশাসনের শিথিলতার সুযোগে নিত্য পণ্য এবং ওষুধের দোকান ছাড়াও অন্যান্য দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে। তবে মাস্ক ব্যতীত রাস্তায় বের হলে এবং অপ্রয়োজনীয় দোকান খুললে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান।
করোনা সংক্রামণ বেড়ে যাওয়ায় গত সোমবার থেকে সারা দেশে সীমিত পরিসরে লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। এই ঘোষণার প্রথম দিন গত সোমবার বরিশালের রাস্তাঘাটে মানুষ এবং অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচল ছিল কম। তবে প্রশাসনের শিথিলতার সুযোগে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনে রাস্তায় বেড়েছে মানুষের চলাচল। রিক্সা, অটোরিকশা এবং থ্রি হুইলারে গন্তব্যে যাচ্ছেন তারা।
দূরপাল্লা এবং অভ্যন্তরীণ রুটের বাস বন্ধ থাকায় ভেঙ্গে ভেঙ্গে স্বল্প দূরত্বে গিয়ে ফের পরবর্তী গন্তব্যে যাচ্ছেন জরুরি প্রয়োজনে রাস্তায় বের হওয়া মানুষ। এ ক্ষেত্রে গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া। অতিরিক্ত ভাড়া দেয়ার সামর্থ্য না থাকায় অনেকে হেঁটেই যাচ্ছেন গন্তব্যে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্টাফ জানান, তার কর্মস্থল বাকেরগঞ্জে। তাই প্রতিদিনের মতো সকালে রিকশাযোগে বগুড়া রোড থেকে রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড যেতে হয়েছে দ্বিগুণ ভাড়ায়। পরে বাস স্ট্যান্ড একটু দূরে হেঁটে গিয়ে অটোরিকশায় যেতে হয়েছে পুরাতন দপদপিয়া ফেরিঘাট। সেখানে খেয়া পার হয়ে ঝালকাঠির নলছিটিতে যেতে হয়েছে। পরে সেখান থেকে অটোরিকশাযোগে তিনগুণ বেশি ভাড়ায় বাকেরগঞ্জ যেতে হয়েছে। এমনিভাবে অনেকে দূর-দুরান্তে ছুটছেন বলে তিনি জানান।
এদিকে সোমবার প্রথম দিনের চেয়ে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিন বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অনেক দোকানপাট খুলেছে। নগরীর সদর রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় এক শাটার খোলা রেখে চশমা, পোশাক এবং প্রসাধনীর দোকানে বেচা-বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়া নগরীর সব এলাকায় খোলা রাখা হয়েছে চায়ের দোকান। তবে প্রশাসনের তরফ থেকে এসব দোকান বন্ধের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
নিত্য পণ্যের বাজারের আগের কয়েক দিনের চেয়ে ভীর কিছুটা কমেছে। লকডাউনের অজুহাতে পিয়াজ, রোশন, আদা, আলুর পর এবার বরিশালের বাজারে বেড়েছে কাঁচা তরকারির দাম।
বরিশাল পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন ছাড়া করোনা প্রতিরোধ সম্ভব নয়। মাস্ক ছাড়া কেউ রাস্তায় বের হতে পারবে না। লকডাউনকালে অপ্রয়োজনে কোনো দোকানপাট খোলা রাখা যাবে না। এ বিষয়ে মেট্রোপলিটন পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।