স্কুল শিক্ষিকা সৎ মায়ের এ কেমন নির্যাতন!

অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২০
  • ৬৪৩ প্রিয় পাঠক,সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন এবং মধুমতির সাথেই থাকুন

কুমিল্লার চান্দিনা পৌর এলাকাধীন রূপনগর আবাসিক এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য জামাল হোসেনের শিশু কন্যা ইসরাত জাহান তিথি ওরফে মনিকে সৎ মা স্কুল শিক্ষিকা লাভলীর নির্যাতনে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন নিয়ে শিশুটি গত ১০ দিন ধরে তার খালু সামসুল হক ভূইয়ার ময়নামতি সেনানিবাস সংলগ্ন ঘোষনগর গ্রামের বাড়িতে আশ্রিত থাকার পর মঙ্গলবার চান্দিনা উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের হেফাজতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, জেলার দেবিদ্বার উপজেলার বরকামতা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. জামাল হোসেন ২০১০ সালে অবসরে যান। এরপর ২০১৫ সালে তিথির মা মারা যান। এরপর জামাল হোসেন লাভলী আক্তার নামে এ প্রাথমিক স্কুল শিক্ষিকাকে বিয়ে করেন। সেখানে এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর জামাল হোসেন চান্দিনা পৌর এলাকাধীন রূপনগর আবাসিক এলাকার ভাড়া বাসায় পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। তিথি এসময় চান্দিনা সংলগ্ন দেবিদ্বার উপজেলার বাগমারা আলিয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া করত। ২০১৮ সালে হঠাৎ তিথি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এতে সে কিছুটা সুস্থ হলেও সেসময় ৭ম শ্রেণি পড়ুয়া তিথির লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে চলছিল তার দিনকাল।

তিথির খালু সামসুল হক ভূঁইয়া জানান, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি অস্ত্র মামলায় তিথির বাবা জামালকে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ গ্রেফতার করে। এরপর থেকে তিথির কপালে নেমে আসে দুর্ভোগ। এসময় তাদের সাথে তিথির পরিবারের যোগাযোগও কিছুটা বন্ধ হয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, গত ২ অক্টোবর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেবিদ্বার উপজেলার ভানী ইউনিয়নের কটকসার গ্রামে মেয়েকে নিয়ে তার আরেক খালার বাড়িতে যান। ফেরার পথে তারা তিথিকে দেখার বায়না ধরলে চান্দিনা রূপনগর বাসায় তাদের নিয়ে যান। এসময় তিথির সৎ মা লাভলী জানান সে অসুস্থ। এ কথা জানার পর তাকে ময়নামতি সেনানিবাস সংলগ্ন বুড়িচং উপজেলার ঘোষনগর গ্রামের বাসায় নিয়ে আসেন তিথির খালু। পরদিন তিথিকে গোসল করানোর পর কাপড় পরিবর্তনের সময় শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান তিথির খালাতো বোন। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জানালে আশপাশেও ছড়িয়ে পড়ে নির্যাতনের বিষয়টি। একটা সময় সেটি স্থানীয়রা জানলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।

সরেজমিন তিথির খালু সামসুলের বাসায় গিয়ে সংবাদ কর্মীরা বারবার তিথির সাথে কথা বলার চেষ্টা করলেও ভারসাম্যহীন হয়ে পড়া শিশুটি কোন সাড়া দেয়নি। শিশুটির খালাতো ভাই নাজমুল হাসান ও প্রতিবেশী মামা হুমায়ুন কবীরসহ স্থানীয়রা জানান, তিথির শরীরের হাত, পা, পিঠসহ বিভিন্নস্থানে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক বিচার দাবি করেন। এরইমধ্যে ফেসবুকে ঘটনা জানাজানি হয়ে পড়লে তিথির সৎ মা স্কুল শিক্ষিকা লাভলীর সাথে সংবাদ কর্মীরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেয়। বিষয়টি জানতে চাইলে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামসুদ্দিন মো. ইলিয়াস জানান, শিশুটির বিষয়ে চান্দিনা সমাজসেবা অধিদপ্তরকে জানানো হলে তারা শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। বর্তমানে তারাই শিশুটির দেখভাল করছেন। এছাড়াও তিনি আরো বলেন, তিথির খালু সামসুল হক ভূঁইয়া বাদী হয়ে স্কুল শিক্ষিকা লাভলীর বিরুদ্ধে চান্দিনা থানায় মামলা রুজু করেছেন। পুলিশ তাকে আটকের চেষ্টা করছে।

Please Share This Post in Your Social Media

মধুমতি টেলিভিশনের অন্যান্য খবর