চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে মা ও বোনের হয়রানির অপমান সইতে না পেরে দশম শ্রেণির ছাত্র সালমান মারুফ আত্মহত্যার ঘটনায় ডবলমুরিং থানার উপপরিদর্শক হেলাল খানকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে তার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চাকরিচ্যুত করা হয়।
হেলাল খানকে চাকরিচ্যুতির সত্যতা নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের-সিএমপি পশ্চিম জোনের উপকমিশনার ফারুক উল হক বলেন, ঘটনার পর পরই হেলালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এখন যেহেতু উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্তে তার অপরাধ প্রমাণ হয়েছে, তাই তাকে চূড়ান্তভাবে চাকরিচ্যুত করা হলো।
গত ১৬ জুলাই রাতে নগরীর আগ্রাবাদ বাদামতলী এলাকায় দশম শ্রেণির ছাত্র সালমান মারুফ আত্মহত্যা করে। পরে অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে ওই রাতে ইয়াবা উদ্ধারের নাম করে হেলাল খান দুজন সোর্সসহ মারুফদের বাসায় হানা দেয়। এ সময় তারা মারুফের মা এবং বোনকে মারধরসহ চরমভাবে নাজেহাল করেন। এমনকি দুজনকে থানায় নিয়ে যান হেলাল। আর এ অপমান সইতে না পেরে বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করে মারুফ।
পরবর্তীতে সিএমপির গোয়েন্দা শাখার উপকমিশনার মঞ্জুর মোর্শেদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে পুরো ঘটনার জন্য হেলালকে দায়ী করা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত না করেই হেলাল সোর্স নিয়ে ওই বাসায় গিয়েছিলেন। সে সঙ্গে ওই বাসায় গিয়ে হেলাল চূড়ান্ত রকমের বাড়াবাড়ি করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরেও হেলালের বিরুদ্ধে আরও বেশকিছু অনিয়মের তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
গত সপ্তাহে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত চান্দু মিয়াও হেলালের সোর্স ছিল বলেও অভিযোগ।