খুলনা কয়রায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সন্ত্রাসীরা ধারালো দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে ৩ জনকে গুরুতর আহত করে। সোমবার (০৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের দেয়াড়া গ্রামে ইউনুস আলী গাজির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন ইউনুস আলী গাজি ও তার ছেলে আজিজুল। হামলার পর গ্রামবাসী এগিয়ে এসে তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এলাকাবাসী ও প্রতক্ষ্যদর্শী সূত্রে জানা যায়, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে উপজেলার দেয়াড়া গ্রামের মাহমুদ মাওলার নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেয়াড়া গ্রামের ইউনুসের বাড়িতে দুপুরে হামলা চালায়।
এ সময় তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়ির গেট ও ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর করে। হামলার মধ্যে কুপিয়ে দুজনকে গুরুতর আহত করে। আহত আজিজুল জানান, মাহমুদ মাওলার নেতৃত্বে আওয়াল, রাসেল, কামরুলসহ ১০ থেকে ১২ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা করে।
এলাকায় একাধিক মামলার আসামিসহ বখাটেদের সংঘবদ্ধ করে মাহমুদ মাওলা একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ গড়ে তোলে। এ সন্ত্রাসী দলটি এলাকার নিরীহ মানুষের হামলা, লুটপাট, মারধর ও নির্যাতনসহ হয়রানি করে আসছিল। তাদের নামে মামলাও রয়েছে। এ ব্যাপারে কেউ প্রতিবাদ করলে তার ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা দেওয়া হুমকি ও হয়রানি করারও বহু অভিযোগ রয়েছে বলে জানান। এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মাহমুদ মাওলা ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। আমার প্রতিপক্ষরা আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য চেষ্টা করছে। তবে হামলায় অংশ নেয়া আওয়াল বলেন, মাহমুদ ভাইয়ের ওপর হামলা ঠেকাতে গিয়ে আমার হাতে আঘাত পাই। কয়রা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. রবিউল হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে কেউ এখনো লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।