রাজশাহীর দুর্গাপুরে সরকারি চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একটি চক্র হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এতে প্রতারকরা আঙুল ফুলে কলাগাছ হলেও ভুক্তভোগীরা চাকরি বা টাকা কিছুই পাচ্ছেন না। তবে গ্রামবাসীর করা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। পুলিশ বলছে, অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রাজশাহীর দূর্গাপুর উপজেলার কিসমত মারিয়া গ্রামের ফজেল আলী। স্বপ্ন ছিল অনার্সপড়ুয়া ছেলে সবুজ সরকারি চাকরি করে পরিবারের অভাব অনটন দূর করবে। তার সরলতার সুযোগ নিয়ে ওই এলাকার মহসিন ও তার ভাই মকসেদ সাত লাখ টাকার বিনিময়ে সবুজকে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখায়। সাত মাস আগে বসতভিটা ছাড়া বাকি জমিজমা বিক্রি করে ছেলের চাকরির জন্য সাড়ে তিন লাখ টাকা দেন ওই প্রতারকচক্রের হাতে। তাদের প্রতারণার জালে পড়ে এখন সর্বস্বান্ত ফজেল।
ফজেল বলেন, টাকা দিচ্ছে না। টাকা চাইলে বএল আমার কাছে নেই। স্যারদের দিয়েছি।
শুধু তিনি নন, তার মতো অনেকের কাছ থেকেই পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবিতে চাকরি দেয়ার নামে লাখ লাখ হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক মহসিন ও মোকসেদ। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দিনের পর দিন আশ্বাস দিলেও চাকরি দিতে পারেনি। টাকাও ফেরত দিচ্ছে না। উল্টো মকসেদ মাটির ঘর দালানে পরিণত হচ্ছে। প্রভাবশালী হওয়ায় ভুক্তভোগীদের অনেকেই ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে রাজি হয়নি।
এসব অভিযোগের সত্যতা জানতে সময় সংবাদের রিপোর্টার সরেজমিনে যান মহসিন ও মকসদের বাড়িতে। ক্যামেরা দেখে অভিযুক্ত মকসেদ সটকে পড়লেও মহসিন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। মহসিন বলেন, গ্রামের মানুশ এসব কথা বললে মিথ্যা বলেছে। আমি আওয়ামী লীগ করি, তারা বিএনপি করে তাই আমার নামে এসব ছড়াচ্ছে।
এদিকে অভিযোগ পেলে ওই প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেয় পুলিশ। পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ বলেন, এ ধরনের কোনো ভুক্তভোগী থাকলে আমাদের জানালে আমরা ব্যবস্থা নেব।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়ার নাম করে ৩০ জনেরও বেশি মানুষের কাছ থেকে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্রটি।