ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের থানাকান্দি গ্রামে ২০১৯ সালে ১২ এপ্রিল দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রপিক্ষের হামলায় (পা বিচ্ছিন্ন) নিহত মোবারক মিয়া (৪৫) খুনের মামলার প্রধান আসামী পার্শ্ববর্তী বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির আহম্মেদকে রোববার সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গল থেকে গ্রেফতার করেছে সিলেট র্যাব-৯। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে নবীনগর থানার ওসি (তদন্ত) মো: রুহুল আমিন।
জানা যায়, নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান ও থানাকান্দি গ্রামের কাউসার মোল্লা সর্দারের মাঝে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে গত ২০১৯ সালের ১২ এপ্রিল এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সময় জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে মোবারক মিয়ার পা কেটে নিয়ে যায় কাউসার মোল্লার লোকজন। গুরুতর আহত মোবারক চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন দিন পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
এই ঘটনার ছয় দিন পর নিহতের চাচাতো ভাই চাঁন মিয়া বাদী হয়ে ১৫২ জনকে আসামি করে নবীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ হত্যা মামলায় পার্শ্ববর্তী বীরগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির আহমেদকে প্রধান আসামি করা হলেও আলোচিত এ মামলায় বিবাদমান দুই গ্রুপের একটি গ্রুপের দলনতো কাউছার মোল্লাকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনাম আরো ১৫০ জনকে মামলায় আসামি দেখানো হয়।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা এইচ এম আলামিন আহম্মেদ বলেন, মূলত স্থানীয় রাজনীতির কারণে আমার ভাইকে হয়রানি করতেই পার্শ্ববর্তী একটি ইউনিয়নে সংঘটিত একটি খুনের ঘটনায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মামলায় আসামি করে গ্রেফতার করা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই আমার ভাই এই খুনের ঘটনার সাথে জড়িত নয়। মারা যাওয়ার আগে খুনিদের নাম মোবারক নিজেই বলে গেছেন। মোবারকের কাটা পা হাতে নিয়ে যে মোবারক জয় বাংলা শ্লোগান দিয়েছিলো তাকে কেন পুলিশ এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি, এ প্রশ্ন করেন তিনি।