অর্থনীতিকে স্বাভাবিক পথে ফেরাতে হলে ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। এর জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে বিচারব্যবস্থা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও আমলাতন্ত্রে দ্রুত কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি। পাশাপাশি, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা বজায় রেখে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোতে গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ)।
তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দৃশ্যমানভাবে উন্নত করতে হবে, যাতে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগের নিরাপত্তা অনুভব করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পূর্তিতে সাফল্য, চ্যালেঞ্জ ও ব্যর্থতা নিয়ে জাগো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী এসব কথা বলেছেন। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিশেষ সংবাদদাতা ইব্রাহীম হুসাইন অভি।
আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী: এ প্রশ্নের উত্তর হয়তো জনগণই ভালো বলতে পারবে। তবে আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু পর্যবেক্ষণ শেয়ার করতে পারি। ব্যাংকিং খাতে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী ব্যালান্স অব পেমেন্টে উদ্বৃত্ত এসেছে, কারেন্ট অ্যাকাউন্টেও প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও স্থিতিশীল অবস্থায় আছে, যা ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা কিছুটা ফিরেছে, কিন্তু একইসঙ্গে একটি রক্ষণশীল নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি জুন মাসে মাত্র ৬ শতাংশে নেমে এসেছে এবং আগামী ছয় মাসের জন্যও লক্ষ্য ধরা হয়েছে মাত্র ৭.২ শতাংশ। এর মানে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধরে নিয়েছে, আপাতত বেসরকারি খাতে বড় ধরনের ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন নেই।