ডলারের দামে আবার রেকর্ড

প্রতিবেদকের নাম :
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০২২
  • ১০ প্রিয় পাঠক,সংবাদটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন এবং মধুমতির সাথেই থাকুন

ডলারের দামে আবার রেকর্ড হয়েছে। খোলাবাজারে প্রথমবার ডলারের দাম ১০২ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল খোলাবাজারে প্রতি ডলারের দাম ওঠে ১০২ টাকা ৫০ পয়সা। খোলাবাজারের পাশাপাশি ব্যাংকেও নগদ ডলারের দাম বেশ চড়া। ব্যাংকগুলোতে ৯৮ থেকে ৯৯ টাকার নিচে মিলছে না ডলার। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ডলারের রেট ৯৩ টাকা ৯৫ পয়সা, যা আনুষ্ঠানিক দর হিসেবে পরিচিত। এ হিসাবে আন্তঃব্যাংকের সঙ্গে খোলাবাজারে ডলারের দামের ব্যবধান এখন ৮ টাকা ৫৫ পয়সা।

মানি চেঞ্জার ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদুল আজহার পর থেকে ডলারের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে, কিন্তু সরবরাহ সেভাবে বাড়েনি। আবার ব্যাংকগুলো নগদ ডলার বিক্রি এক প্রকার বন্ধ করে দিয়েছে। এতে সবাই খুচরা ডলারের জন্য খোলাবাজারেই আসছে। এতে দাম বাড়ছে।

প্রবাসী আয়ের নিম্নমুখী প্রবণতা ও আমদানি ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে গত বছরের আগস্ট থেকে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে ডলারের দাম। ডলার বিক্রিসহ নানা পদক্ষেপ নিয়েও ডলারের বাজারের অস্থিরতা থামাতে পারছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকালও বাংলাদেশ ব্যাংক ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে। ৯৩ টাকা ৯৫ পয়সা দরে এই ডলার বিক্রি করা হয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই রেট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোয় ডলার মিলছে না। বর্তমানে আমদানি পেমেন্টের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের প্রতি ডলারের জন্য গুনতে হচ্ছে ৯৮-৯৯ টাকা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সংকটের সুযোগ নিয়ে ডলারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হচ্ছে। তবে ব্যাংবগুলোর দাবি, সংকটের কারণে রেমিটার ও রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে তাদের বেশি দামেই ডলার নিতে হচ্ছে। এ কারণে তাদেরও বেশি দামেই ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে।

বিভিন্ন ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গতকাল ব্র্যাক ও সিটি ব্যাংক নগদ ডলার বিক্রি করেছে ৯৯ টাকায়। মধুমতি ও এনআরবি ব্যাংক বিক্রি করেছে সাড়ে ৯৮ টাকায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, করোনার পরে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় অধিক হারে বেড়ে গেছে। তাই বাজারে ডলের চাহিদা বেড়ে গেছে। এতে দামও বাড়ছে। তবে ডলারের বাজার অস্থিরতা ঠেকাতে প্রতিনিয়ত ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তিনি আরও জানান, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা রোধে ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ব্যাংকগুলো নিজেরাই ডলারের দাম নির্ধারণ করছে।

এদিকে ঈদুল আজহার পর থেকে খোলাবাজারে ডলারের দাম বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জে প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ১০২ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১০২ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে। একদিন আগেও যা ছিল ১০১ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১০২ টাকা ২০ পয়সা। আর দুইদিন আগে ছিল ৯৯ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১০১ টাকা ১০ পযসা। আর ঈদুল আজহার আগে ছিল ৯৯ টাকার নিচে।

রাজধানির দিলকুশায় অবস্থিত দোহার মানি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মো. মুরাদ হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, ঈদুল আজহার পর বিদেশ ভ্রমণ বেড়ে গেছে। কেউ চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন, কেউ লেখাপড়ার জন্য। আবার কেউ ঘুরতে যাচ্ছেন। ফলে সবার নগদ ডলারের প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু ব্যাংক নগদ ডলার বিক্রি করছে না। ফলে সব চাপ খোলাবাজারে পড়ছে। এতে দামও বাড়ছে। আমরা আজ (গতকাল) ১০২ টাকায় ডলার কিনেছি। আর বিক্রি করেছি ১০২ টাকা ২০ পয়সায়। একই এলাকায় অবস্থিত গ্লোরী মানি এক্সচেঞ্জে গতকাল ডলার বিক্রি হয়েছে ১০২ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১০২ টাকা ৫০ পয়সা। স্ট্যান্ডার্ড মানি এক্সচেঞ্জেও একই দামে ডলার বিক্রি হয়। তবে এই দুই এক্সচেঞ্জ হাউসের কেউই কথা বলতে রাজি হননি।

করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ার পর থেকে দেশে অস্বাভাবিক গতিতে বাড়ছে বিভিন্ন পণ্যের আমদানি। মূলধনী যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল, শিল্পের মধ্যবর্তী পণ্য, খাদ্যপণ্য, জ্বালানি তেলসহ সব পণ্যের আমদানিই এখন বেশ ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে পণ্য আমদানি বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। কিন্তু ব্যাংকের কাছে ডলার আসার উৎস রেমিট্যান্স প্রবাহ কমছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশ।

Please Share This Post in Your Social Media

মধুমতি টেলিভিশনের অন্যান্য খবর